ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী আব্দুল মন্নানকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে বাধা দিতে তার নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন স্থানীয় জনতা ও তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকাল থেকে রাজনগর উপজেলার দত্তগ্রাম এলাকায় প্রার্থীর নিজ বাড়িতে এই নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে। ১০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে অন্য প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ হয়ে কর্মীরা এই অবস্থান নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, ওই আসনে ১০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে সম্প্রতি খেলাফত মজলিসের আহমদ বেলালকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে আব্দুল মন্নানের নির্বাচনী এলাকার সাধারণ মানুষ ও জামায়াতের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। প্রার্থী যাতে কোনোভাবেই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে না পারেন, সেই লক্ষ্যে তারা সকাল থেকেই তার বাড়ি ঘিরে রাখেন এবং তাকে অবরুদ্ধ করে ফেলেন। আন্দোলনকারীদের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে আব্দুল মন্নান এলাকায় কাজ করেছেন এবং তাকে ঘিরেই তাদের নির্বাচনী স্বপ্ন। এখন তাকে সরিয়ে নতুন কাউকে চাপিয়ে দেওয়া তারা মেনে নেবেন না।
প্রার্থী আব্দুল মন্নানের ছেলে ডা. তানভীর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তার বাবা দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকার বাসিন্দা ও কর্মীদের নিয়ে মাঠে সক্রিয় ছিলেন। সকাল থেকে সাধারণ মানুষ ও কর্মীরা বাড়িতে এসে বাবাকে আটকে রেখেছেন যাতে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহারের জন্য বাইরে যেতে না পারেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সেখানে জামায়াতের কোনো ঊর্ধ্বতন নেতা উপস্থিত নেই; যারা অবস্থান নিয়েছেন তারা সবাই স্থানীয় বাসিন্দা এবং তার বাবার একনিষ্ঠ কর্মী। এটি সম্পূর্ণ স্থানীয়দের স্বতঃস্ফূর্ত আবেগ ও উদ্যোগের প্রতিফলন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জোটের প্রার্থী ঘোষণা নিয়ে তৃণমূলের এই ক্ষোভ দলীয় অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের বহিঃপ্রকাশ। অবরুদ্ধকারীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত প্রার্থীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরিয়ে আনা হলে তারা নির্বাচনের মাঠ ছেড়ে দেবেন না। নির্বাচনের আগে এমন পরিস্থিতি এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। এদিকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় আব্দুল মন্নান শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেন এবং উত্তেজিত কর্মীদের শান্ত করে তিনি বাড়ি থেকে বের হতে পারেন কি না, তা নিয়ে জনমনে কৌতূহল বিরাজ করছে।
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ