ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
পলাশ বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ: আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের দুর্ভেদ্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জে এবার বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার তিনটি সংসদীয় আসনেই বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-১ আসন থেকে বিএনপির এফ.ই. শরফুজ্জামান জাহাঙ্গীর একবার বিজয়ী হলেও, এবারই প্রথম জেলার সবকটি আসনে বিএনপির প্রার্থীরা জয়ের দেখা পেলেন।
গোপালগঞ্জ-১ (মুকসুদপুর ও কাশিয়ানীর আংশিক) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সেলিমুজ্জামান মোল্যা ৬৮ হাজার ৮৬৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. কাবির মিয়া পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৯৬১ ভোট। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৫১০ জন এবং ১৩৮টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ৯ জন প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সেলিমুজ্জামান মোল্যা বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন।
গোপালগঞ্জ-২ (সদর ও কাশিয়ানীর আংশিক) আসনে জয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. কে এম বাবর। এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের অনুপস্থিতিতে বিএনপি প্রার্থীর জয়কে স্থানীয়রা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গিপাড়া-কোটালিপাড়া) আসনে চমক সৃষ্টি করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ৬০ হাজার ১৬৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী গোবিন্দ প্রামাণিক পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৮৬৭ ভোট।
নির্বাচন পরবর্তী এই ফলাফল ঘোষণার পর থেকে গোপালগঞ্জের বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। তবে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী বড় ধরনের কোনো বিজয় মিছিল বা উদযাপন না করার আহ্বান জানিয়েছেন বিজয়ীরা। আজ শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন মসজিদে শুকরিয়া দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গোপালগঞ্জে বিএনপির এই ভূমিধস বিজয় বাংলাদেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক মানচিত্রে এক বড় ধরনের পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছে।
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ