ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
সৌরভ হোসেন, ছাগলনাইয়া (ফেনী): ফেনীতে স্বামীর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জীবনের প্রথম ভোট দেওয়ার অপরাধে বিবি জহুরা নামে এক গৃহবধূকে তালাক দিয়েছেন এক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর বাঁশতলা এলাকায় এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর স্থানীয় জনতার তোপের মুখে পালিয়ে গিয়েছেন অভিযুক্ত স্বামী ও ধর্মপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন কাওসার।
ভুক্তভোগী বিবি জহুরা ও এলাকাবাসী জানান, বুধবার নির্বাচনের দিন বিকেলে জহুরাকে ভোটকেন্দ্রে যেতে নিষেধ করেছিলেন কাওসার। কিন্তু প্রথমবার ভোটার হওয়ায় জহুরা উৎসাহের সাথে সকালে তিন সন্তানকে নিয়ে ভোট দিয়ে আসেন। ভোট দিয়ে ফেরার পর তিনি স্বামীর জন্য নাস্তা ও দুপুরের খাবারও তৈরি করেন। বিকেল পর্যন্ত কাওসার বিষয়টি না জানলেও, সন্ধ্যায় বাড়ির পাশের রাস্তায় লোকজনের মাধ্যমে স্ত্রীর ভোট দেওয়ার খবর জানতে পারেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি জনসম্মুখে স্ত্রীকে মৌখিক ‘তিন তালাক’ দেন এবং তাঁকে ঘরে ঢুকতে বারণ করেন।
ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষুব্ধ হয়ে কাওসারকে আটক করে মারধর করেন। একপর্যায়ে তালাক ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বলে কৌশলে জনসমাগম থেকে পালিয়ে যান তিনি। ২০১৩ সালে পারিবারিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এই দম্পতির সংসারে তিন সন্তান রয়েছে। জহুরার বাবা নুর আহম্মদ জানান, বিয়ের পর থেকেই কাওসার তাঁর মেয়েকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। এমনকি শ্বশুরকেও মারধর করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। বর্তমানে তিন সন্তান নিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়েছেন জহুরা। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়রা অভিযুক্ত কাওসারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ