ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
পিএম, সাজ্জাদ শরীফ, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলী উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে চরম অনিয়ম ও ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে। কার্যাদেশ প্রদানের আট বছর অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত শেষ হয়নি নির্মাণ কাজ। বর্তমানে ঠিকাদার ও গণপূর্ত বিভাগের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে অত্যন্ত নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। সম্প্রতি কাজের অনিয়ম সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আমতলী মডেল মসজিদ নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করে বরগুনা গণপূর্ত বিভাগ। ১২ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে পটুয়াখালীর আবুল কালাম আজাদ ট্রেডার্স কার্যাদেশ পেলেও নির্ধারিত সময়ে তারা কাজ শুরু করতে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে ২০২১ সালে কাজ শুরু হলেও জমি সংক্রান্ত জটিলতায় তা পুনরায় বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ চার বছর কাজ বন্ধ থাকার পর চুক্তি বাতিল করে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হয়। ২০২৫ সালের জুনে পটুয়াখালীর ফিরোজ নামের এক ঠিকাদার নতুন করে কাজ পান। গত সেপ্টেম্বর মাসে কাজ শুরু করলেও শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে নিম্নমানের রড, ইট, বালু ও পাথর ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের বাধায় কিছুদিন কাজ বন্ধ থাকলেও উপজেলা প্রশাসন ও গণপূর্ত বিভাগের অগোচরে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়েই কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে গত সোমবার নির্মাণ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মসজিদের সলিংয়ের কাজে ব্যবহারের জন্য অত্যন্ত নিম্নমানের ইটের স্তূপ রাখা হয়েছে এবং শ্রমিকরা তা দিয়েই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া ঢালাই কাজের জন্য রাখা বালু ও পাথরের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় নাগরিকরা। আমতলী পৌর নাগরিক রিপন মুন্সি ও সফিকুল ইসলাম সোহাগ তালুকদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশের অধিকাংশ জায়গায় মডেল মসজিদ চালু হয়ে গেলেও আমতলীতে আট বছর ধরে কেবল অনিয়মের মহড়া চলছে। ঠিকাদার ও গণপূর্ত বিভাগের অশুভ আঁতাতের ফলেই এমন অনিয়ম সম্ভব হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন।
অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদার ফিরোজ মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে এড়িয়ে যান। বরগুনা গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ জহিরুল ইসলাম মিরাজ জানান, কিছু খারাপ ইট আনা হয়েছিল যা সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ফয়সাল আলম জানিয়েছেন, অনিয়মের কোনো লিখিত অভিযোগ তিনি পাননি। এদিকে আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী জানান, মডেল মসজিদের নির্মাণ ত্রুটি নিয়ে জেলা প্রশাসকের সমন্বয় সভায় আলোচনা হয়েছে। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ তদারকির জন্য একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হচ্ছে যারা সরাসরি উপস্থিত থেকে কাজের মান নিশ্চিত করবেন।
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ