শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে থেকেও হতে পারে ডিহাইড্রেশন, কী করবেন?

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে থেকেও হতে পারে ডিহাইড্রেশন, কী করবেন?

শৈলী ডেস্ক: কড়া রোদ আর প্রচণ্ড গরমে বাইরে বের হলেই ডিহাইড্রেশন বা হিট স্ট্রোক হতে পারে—এমনটাই আমাদের সাধারণ ধারণা। তবে জানেন কি, দিনভর এসির ঠান্ডা পরিবেশে বসে থাকলেও আপনি পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশনের শিকার হতে পারেন? অস্বস্তি কম হওয়ায় শরীরের তৃষ্ণার সংকেতগুলো আমরা অনেক সময় বুঝতে পারি না, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

কেন এসিতে ডিহাইড্রেশন হয়? বাইরে থাকলে গরম ও ঘামের কারণে আমরা বারবার পানি পান করি। কিন্তু এসির পরিবেশে ঘাম হয় না বলে তৃষ্ণার অনুভূতি কমে যায়। ফলে শরীর ধীরে ধীরে পানিশূন্য হয়ে পড়লেও আমরা তা টের পাই না।

ঝুঁকি বাড়ায় যেসব অভ্যাস:

  • অতিরিক্ত চা-কফি: অফিসে কাজের ফাঁকে অনেকেই পানির বিকল্প হিসেবে ঘন ঘন চা বা কফি পান করেন। এই পানীয়গুলো শরীরে পর্যাপ্ত হাইড্রেশন দেয় না, বরং পানির ঘাটতি বাড়িয়ে দেয়।

  • লক্ষণ এড়িয়ে যাওয়া: মাথা ব্যথা, বিকেলের দিকে ক্লান্তি, মনোযোগ কমে যাওয়া বা ঠোঁট শুকিয়ে যাওয়াকে আমরা কাজের চাপ মনে করি। আসলে এগুলো হালকা ডিহাইড্রেশনের লক্ষণ।

  • একটানা বসে থাকা: দীর্ঘক্ষণ ডেস্কে বসে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে শরীরের অভ্যন্তরীণ সংকেতগুলো অনুভূত হয় না। ফলে সামনে পানির বোতল থাকলেও তা পানের কথা মনে থাকে না।

দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব: দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত পানি পান না করলে কিডনির ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ে। প্রস্রাব ঘন হয়ে যাওয়া, কিডনিতে পাথর বা সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে।

সুস্থ থাকতে করণীয়: ডিহাইড্রেশন এড়াতে তৃষ্ণা না পেলেও নিয়মিত বিরতিতে পানি পান করুন। ডেস্কে সবসময় পানির বোতল রাখুন এবং প্রয়োজনে ফোনে রিমাইন্ডার সেট করুন। অতিরিক্ত চা-কফি পানের অভ্যাস কমিয়ে মাঝেমধ্যে ডেস্ক থেকে উঠে হাঁটাহাঁটি করুন। অফিসের পরিবেশ পরিবর্তন করা সম্ভব না হলেও নিজের ছোট ছোট অভ্যাস বদলে আপনি সুস্থ থাকতে পারেন।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন