পরিশ্রম বিফলে যায় না: বর্গাচাষির ছেলের বিসিএস জয়ের গল্প

পরিশ্রম বিফলে যায় না: বর্গাচাষির ছেলের বিসিএস জয়ের গল্প

 গ্রামের এক নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসে ৪৫তম বিসিএসে সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন আরাফাত শাহীন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা এই তরুণের জীবনযুদ্ধ ছিল প্রতিকূলতায় ঘেরা। তার বাবা একজন বর্গাচাষি, যার নিজের জমি বলতে সামান্য। ৯ ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট আরাফাত অভাবের সংসারে বড় হলেও পরিবারের সবার আদর ও অনুপ্রেরণা পেয়েছেন। বিশেষ করে তার বাবা নিজে পড়ার সুযোগ না পেলেও সন্তানদের শিক্ষার ব্যাপারে ছিলেন অত্যন্ত আন্তরিক।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে পড়াশোনার পাশাপাশি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে যুক্ত থাকা আরাফাত পরিচিত ছিলেন ‘কবি’ হিসেবে। ছাত্রাবস্থায় তার তিনটি বইও প্রকাশিত হয়েছে। তবে মাস্টার্স শেষ হওয়ার পর চরম আর্থিক অনটন তাকে বাস্তবের মাটিতে নামিয়ে আনে। পকেটে থাকা শেষ সম্বল দিয়ে যখন পরদিনের আহার জোগানো অসম্ভব হয়ে পড়ে, তখনই তিনি সিদ্ধান্ত নেন জীবন যুদ্ধে জেতার জন্য কঠোর সংগ্রামের। এরপর রাজশাহী ছেড়ে খুলনা ও পরে ঢাকায় গিয়ে শুরু হয় তার বিসিএস প্রস্তুতি। তবে শুরুটা সহজ ছিল না; টানা তিনটি বিসিএস (৪১, ৪৩ ও ৪৪তম) প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় তিনি অকৃতকার্য হন। তবুও হাল না ছেড়ে নিজের একাগ্রতা বজায় রেখে ৪৫তম বিসিএসে এসে তিনি প্রথম প্রিলিমিনারি পাসের স্বাদ পান এবং চূড়ান্তভাবে সাফল্যের দেখা পান।

বর্তমানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সহকারী কাস্টোডিয়ান হিসেবে কর্মরত আরাফাত শাহীন তার এই দীর্ঘ সফরের অভিজ্ঞতায় জানান, বিসিএস শুধু একটি পরীক্ষা নয়, এটি একটি দীর্ঘ ধৈর্য ও মানসিক স্থিরতার পরীক্ষা। তার মতে, সময়ের সঠিক ব্যবহার এবং একাগ্রতা থাকলে যেকোনো লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। নিজের মেধা ও পরিশ্রমের পাশাপাশি পরিবারের অকুণ্ঠ সমর্থন এবং বন্ধুদের অনুপ্রেরণাকেই তিনি সফলতার চাবিকাঠি বলে মনে করেন। ক্যাডার হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে তিনি এখন নিজের গ্রামীণ জনপদে শিক্ষার আলো ছড়াতে এবং দেশের সেবায় আত্মনিয়োগ করার স্বপ্ন দেখছেন। পরবর্তী বিসিএস পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তার পরামর্শ—হতাশ না হয়ে লক্ষ্য স্থির রেখে কঠোর পরিশ্রম করে যেতে হবে, কারণ পরিশ্রম কখনো বিফলে যায় না।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন