ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
বিনোদন ডেস্ক: তামিল সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা চিয়াঁ বিক্রমের জীবনের শুরুর গল্পটা যেকোনো সিনেমার চেয়েও বেশি রোমাঞ্চকর এবং প্রেরণাদায়ী। আজ তাঁর ৬০তম জন্মদিনে সামনে এল সেই কঠিন সংগ্রামের কাহিনী, যেখানে চিকিৎসকদের ‘আর কোনোদিন হাঁটতে পারবে না’—এমন ভবিষ্যদ্বাণীকে ভুল প্রমাণ করে তিনি হয়েছিলেন সুপারস্টার।
ভয়াবহ দুর্ঘটনা ও লড়াই: কলেজে পড়ার সময় চেন্নাই থেকে নাটক করে ফেরার পথে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন বিক্রম। আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে, চিকিৎসকেরা তাঁর পা কেটে ফেলার পরামর্শ দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত পা রক্ষা পেলেও ২৩টি অস্ত্রোপচার এবং দীর্ঘ তিন বছর বিছানায় পড়ে থাকতে হয় তাঁকে। সংক্রমণ ও ক্রাচে ভর দিয়ে চলাফেরা মিলিয়ে প্রায় চার বছর তিনি স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারেননি।
এর আগেও শৈশবে একবার মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় পড়ে ২০টির বেশি অস্ত্রোপচারের মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁকে। জীবনের শুরুর অনেকটা সময় তাঁকে কাটাতে হয়েছে হাসপাতালের বিছানায়।
অদম্য মানসিক শক্তি: চিকিৎসকেরা যখন হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন, বিক্রম তখন মনে মনে শপথ করেছিলেন—তিনি শুধু হাঁটবেনই না, বরং অভিনেতা হয়ে পর্দায় দৌড়াবেন। নিয়মিত ব্যায়াম, সাঁতার এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে তিনি পুনরায় দাঁড়াতে শেখেন।
সাফল্যের দীর্ঘ প্রতীক্ষা: শারীরিক লড়াই শেষে শুরু হয় ক্যারিয়ারের লড়াই। দীর্ঘ ১০ বছর তাঁর কোনো সিনেমাই সাফল্যের মুখ দেখেনি। অবশেষে ১৯৯৯ সালে ‘সেথু’ সিনেমার মাধ্যমে ভাগ্য বদলায় তাঁর। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি এই ভার্সেটাইল অভিনেতাকে।
ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি ছিলেন অসম্ভব আত্মবিশ্বাসী। যখন তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে প্রথম দেখা হয়, তখন তিনি ক্রাচে ভর দিয়ে চলতেন। সেই অবস্থাতেই তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি একদিন সুপারস্টার হবেন। আজ সেই স্বপ্নই বাস্তবে রূপ পেয়েছে। যদিও এখনো তিনি পুরোপুরি সুস্থ নন, হাঁটু পুরোপুরি বাঁকাতে পারেন না, তবুও প্রতিটি চরিত্রকে তিনি চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেন।
জান্নাত/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ