ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
নিরঞ্জন রায় | ব্যাংকার ও অর্থনীতি বিশ্লেষক
অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য জাতীয় বাজেট পেশ করতে যাচ্ছে। ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক বাজেটের চেয়ে সরকারি বাজেট প্রণয়ন সবসময়ই কঠিন, তবে বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এবারের বাজেট অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিং ও সংকটের।
অর্থনীতির ধারাবাহিকতাহীনতা ও সংকট: স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক অগ্রগতির ধারাবাহিকতা রক্ষার অভাব একটি বড় সমস্যা। লেখক নিরঞ্জন রায়ের মতে, গত দেড় বছরের অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ থেকে কমে ৩ শতাংশের কাছাকাছি নেমে এসেছে। ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২ লাখ কোটি থেকে বেড়ে ৬ লাখ কোটিতে পৌঁছেছে, যা গ্রাহকদের আস্থার সংকটে ফেলেছে। কয়েক লাখ শ্রমিক বেকার হয়েছে এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। এই নজিরবিহীন ক্ষতি কাটিয়ে ওঠাই হবে এবারের বাজেটের প্রধান লক্ষ্য।
গতানুগতিক ধারা বনাম নতুনত্ব: বাংলাদেশের বাজেট সাধারণত গতানুগতিক ধারার হয়ে থাকে—আগের বছরের চেয়ে নির্দিষ্ট শতাংশ বাড়িয়ে করারোপ, ঘাটতি মেটানো ও ব্যাংকঋণ নির্ভরতা। লেখক মনে করেন, বিশাল ঘাটতি মেটাতে শুধু ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভর না করে সার্বভৌম বন্ড (Sovereign Bond) ইস্যু করা প্রয়োজন। এতে সরকার কম সুদে অর্থ সংগ্রহ করতে পারে এবং বেসরকারি খাতে ঋণের সংকট হয় না। এছাড়া প্রবাসীদের জন্য বিশেষায়িত ডলার বন্ড বিক্রির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার সংকট মেটানো সম্ভব।
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যুদ্ধের প্রভাব: এবারের বাজেট এমন এক সময়ে তৈরি হচ্ছে যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলছে। এর ফলে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার কারণে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা রয়েছে। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে 'প্রাইভেট ক্রেডিট' নিয়ে সৃষ্ট অস্থিরতা ২০০৮ সালের মতো আর্থিক সংকটের জন্ম দিতে পারে। বাংলাদেশের মতো অপ্রস্তুত অর্থনীতির জন্য এই আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবিলা করা অনেক বেশি কঠিন হবে।
উত্তরণের পথ: বাজেটে এমন ফিসক্যাল পলিসি গ্রহণ করতে হবে যাতে জিডিপি বৃদ্ধি পায় এবং কর্মসংস্থান তৈরি হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে কর বাড়ানোর সুযোগ সীমিত। তাই প্রথাগত পন্থার বাইরে গিয়ে বিকল্প উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। চ্যালেঞ্জ ও অনিশ্চয়তা মোকাবিলা করে একটি গতিশীল বাজেট প্রণয়ন করাই হবে সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা।
জান্নাত/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ