অনিশ্চিত প্রকল্পে অপরিণামদর্শী ব্যয়

অনিশ্চিত প্রকল্পে অপরিণামদর্শী ব্যয়

ভবিষ্যৎ চিন্তা না করে মাত্রাতিরিক্ত ব্যয়ের পরিণতি বোঝাতে বাংলা প্রবচনে বলা হয় ‘ঋণ করে ঘি খাওয়া’। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শুরু হওয়া 'সর্বজনীন পেনশন স্কিম' এখন তেমনি এক অপরিণামদর্শী উদ্যোগ হিসেবে সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থবির হয়ে পড়া এই প্রকল্পের অবকাঠামো ও প্রশাসনিক কাজে ব্যয়ের জন্য সরকার এখন প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা বিদেশি ঋণ নিতে যাচ্ছে।

প্রকল্পের বর্তমান চিত্র: ২০২৩ সালে চালু হওয়া এই পেনশন স্কিমটি সাধারণ মানুষের মাঝে আস্থা তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রথম দশ মাসে তিন লাখ সদস্য যুক্ত হলেও পরবর্তী ২০ মাসে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ৩৮ হাজারে। এ পর্যন্ত তহবিলে জমা পড়েছে মাত্র ২৪২ কোটি টাকা। যেখানে জনগণের অংশগ্রহণই অনিশ্চিত, সেখানে বিশাল অংকের ঋণ নিয়ে বিলাসবহুল ভবন নির্মাণ ও প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

আস্থার সংকট ও অনিয়ম: অর্থনীতিবিদদের মতে, ব্যাংক, বীমা ও শেয়ার বাজারের লুটপাটের তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে মানুষ সরকারি এই তহবিলে টাকা জমা দিতে ভয় পাচ্ছে। তাদের শঙ্কা—বিনিয়োগকৃত অর্থ এবং তার রিটার্ন আদৌ পাওয়া যাবে কি না।

ঋণের বোঝা ও অপচয়: এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে ১০ কোটি ডলারসহ মোট ২৫ কোটি ডলার ঋণ নেওয়ার এই তোড়জোড় অর্থনীতির ওপর নতুন বোঝা চাপিয়ে দেবে। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি অবকাঠামো নির্মাণ ও প্রশিক্ষণের নামে আমলাদের বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ তৈরি করতেই এই ঋণের প্রতি সংশ্লিষ্টদের আগ্রহ বেশি। ইতঃপূর্বে খিচুড়ি রান্না বা ঘাস চাষ শিখতে বিদেশ ভ্রমণের মতো হাস্যকর নজির আমাদের আছে।

উপসংহার: দেশ যখন মেগা প্রকল্পগুলোর ঋণের কিস্তি পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছে, তখন একটি মৃতপ্রায় প্রকল্পের পেছনে হাজার কোটি টাকার ঋণের বোঝা বাড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জনগণের আস্থার সংকট দূর না করে ইটের দালান গড়া কেবল রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় ছাড়া আর কিছুই হবে না।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন