ফুটবল খেলা নিয়ে ভাঙ্গায় ৮ গ্রামের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত শতাধিক

ফুটবল খেলা নিয়ে ভাঙ্গায় ৮ গ্রামের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত শতাধিক

মো. লিওন আহমেদ, ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ফুটবল খেলার মাইকিং করাকে কেন্দ্র করে টানা দুই দিন ধরে ৮ গ্রামবাসীর মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশ ও সংবাদকর্মীসহ উভয় পক্ষের অন্তত শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। 

শনিবার (৪ এপ্রিল ২০২৬) সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৫ ঘণ্টাব্যাপী এই সংঘর্ষ চলে। পরবর্তীতে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, গত দুদিন আগে মুনসুরাবাদ গ্রামের রাহাত নামে এক কিশোর ফুটবল খেলার মাইকিং করার সময় পার্শ্ববর্তী খাপুরা, সিংগারডাক ও মাঝিকান্দা গ্রামের কয়েকজন তাকে মারধর করে। এই ঘটনার জেরে শুক্রবার বিকেলে মুনসুরাবাদ বাজার বণিক সমিতির সভাপতি জিন্নাত মিয়াকে মারধর করা হয়। এর পর থেকেই শুক্রবার রাতে এবং শনিবার সকালে দফায় দফায় সংঘর্ষে লিপ্ত হয় ৮ গ্রামের মানুষ।

শনিবার সকালে দেশীয় অস্ত্র, ঢাল ও সরকি নিয়ে মুনসুরাবাদ গ্রামবাসীর সঙ্গে খাপুরা, সিংগারডাক, মাঝিকান্দা, ভীমেরকান্দি, ছোট হামেরদী, হামেরদী ও গুপিনাথপুর মৌজার বাসিন্দারা ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মুনসুরাবাদ বাসস্ট্যান্ড বাজারে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘ ৫ ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় বাজারের বেশ কিছু দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তানসিভ জুবায়ের নাদিম জানান, সংঘর্ষে আহত ৪৮ জন গ্রামবাসী উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে ৩ পুলিশ সদস্য এবং সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে কয়েকজন সাংবাদিক ইটের আঘাতে আহত হয়েছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা সদর থেকে সেনাবাহিনী, ডিবি এবং অতিরিক্ত এক প্লাটুন পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৪ জনকে আটক করেছে। ভাঙ্গা থানার তদন্ত ওসি আলামিন মিয়া জানান, বর্তমানে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

এ.আই.এল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন