ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
জিয়াবুল হক, টেকনাফ: দিন দিন বেড়েই চলছে শীতের তীব্রতা। আর এই হিমেল হাওয়ার পরশ মেখেই কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষা নাফ নদের চরে আসতে শুরু করেছে হাজারো অতিথি পাখির দল। নানা জাতের পরিযায়ী পাখির কলকাকলিতে এখন মুখরিত টেকনাফের উপকূল ও শাহপরীর দ্বীপের চারপাশ। নীল-সাদা আর কালো রঙের পাখিদের ডানার ঝাপটা আর জলকেলি দেখতে ভিড় করছেন দেশি-বিদেশি পর্যটক ও স্থানীয়রা।
সরেজমিন দেখা গেছে, শাহপরীর দ্বীপ জেটি ঘাটের উত্তর-দক্ষিণ পাশে থাকা কেওড়া বাগান এবং নাফ নদের চরে ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখি উড়ে বেড়াচ্ছে। কখনো আকাশে পাখা মেলে নীল দিগন্তে হারিয়ে যাচ্ছে, আবার কখনো নদের স্বচ্ছ জলে মেতে উঠছে খুনসুঁটিতে। তাদের এই ছোটাছুটি দেখে প্রফুল্ল হয়ে উঠছে পর্যটকদের মন। বিশেষ করে শাহপরীর দ্বীপ ঘোলার চর ও করিডোর জেটি এলাকায় পাখির উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে জেটি ঘাটে ঘুরতে আসা চট্টগ্রামের মিরসরাই এলাকার পর্যটক মো. কবির, আবদুর রহমান ও নুরুল ইসলাম জানান, "পরিযায়ী পাখির বেশির ভাগই এখন উপকূলীয় প্যারাবন এবং নাফ নদের চরের গাছগাছালিতে বাসা বেঁধেছে। পাখির কিচিরমিচির শব্দে পুরো এলাকা এক মায়াবী রূপ ধারণ করেছে। এমন দৃশ্য দেখে আমরা সত্যিই অভিভূত।"
টেকনাফ উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালে নির্মিত ৫৫০ মিটার লম্বা এই শাহপরীর দ্বীপ জেটিটি পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। ২ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই জেটিতে বিশ্রামাগার, শৌচাগার ও গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধাও রয়েছে। শীত মৌসুমে এই জেটি থেকেই নাফ নদের সৌন্দর্য ও অতিথি পাখির মেলা উপভোগ করা যায় সবচেয়ে ভালোভাবে।
সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক উম্মূল ফারা বেগম তাজকিরা বলেন, "রোহিঙ্গা সংকটের কারণে গত ৫ বছর ধরে এই করিডোর দিয়ে গবাদিপশু আমদানি বন্ধ থাকলেও পর্যটকদের আনাগোনা কমেনি। নাফ নদের চরে অতিথি পাখির কলকাকলি পর্যটকদের জন্য বাড়তি পাওনা। পাখির অভয়াশ্রম নিশ্চিত করতে এবং পর্যটকদের নিরাপত্তায় স্থানীয় প্রশাসন সজাগ রয়েছে।"
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ