আন্তর্জাতিক ডেস্ক: টানা পতনের মুখে থাকা রুপির মান ধরে রাখতে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের সুরক্ষা নিশ্চিতে সোনা ও রুপার আমদানি শুল্ক উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়েছে ভারত। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রভাবে ভারতের অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর তীব্র চাপ তৈরি হওয়ায় সরকার এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে জারি করা এক সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সোনা ও রুপার আমদানি শুল্ক বিদ্যমান ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। অর্থাৎ রাতারাতি শুল্ক বাড়ানো হয়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। ভারত তার অপরিশোধিত তেলের পর সবচেয়ে বেশি ব্যয় করে সোনা আমদানিতে। সোনা আমদানির মূল্য ডলারে পরিশোধ করতে হয় বিধায় রিজার্ভের ওপর থেকে চাপ কমাতেই এই শুল্ক বৃদ্ধি।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত কয়েকদিন আগেই দেশবাসীকে অন্তত এক বছরের জন্য সোনা কেনা বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। এর আগে তিনি পেট্রোল ও ডিজেল ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ারও পরামর্শ দেন।
ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বের প্রধান বাণিজ্যিক পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ অচল হয়ে পড়ায় তীব্র জ্বালানি সংকটে পড়েছে ভারত। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে তেলের আকাশচুম্বী দাম ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি করেছে। আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় লেনদেনের ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে দিল্লির জন্য।
ভারতে বিয়ে এবং বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে সোনাকে সম্পদ ও সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিলাসবহুল এই পণ্যের আমদানি কমিয়ে ডলার সাশ্রয় করাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি।