বিনোদন ডেস্ক: দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও পছন্দের মানুষকে হারিয়ে শোকাতুর অভিনেতা তারিক আনাম খান। বরেণ্য নাট্যব্যক্তিত্ব আতাউর রহমানের প্রয়াণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন স্মৃতিচারণা করেছেন তিনি। তারিক আনাম খান লিখেছেন, ‘সেই হাসিমাখা মুখটাই বারবার স্মৃতিতে ফুটে ওঠে। সেটাই মনে রাখতে চাই।’
তারিক আনাম খান তার পোস্টে লিখেছেন, ‘আজ যাই, কাল যাই করে যাওয়াটা আর হলো না। শেষ দেখা, শেষ কথা আর হলো না। এ রকম অফুরান জীবনীশক্তির মানুষ চলে যাবেন এখনো বিশ্বাস হয় না।’ মঞ্চ নাটকে একে অপরের কাজ দেখা, গঠনমূলক সমালোচনা আর আড্ডার দিনগুলোর কথা স্মরণ করে তিনি আতাউর রহমানকে নবনাট্য আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে অভিহিত করেন।
আতাউর রহমানের নির্দেশিত ও অভিনীত নাটকের প্রশংসা করার পাশাপাশি তারিক আনাম জানান, তার নিজের নির্দেশিত ও অভিনীত সব নাটকই আতাউর রহমান দেখতেন এবং পত্রিকায় সমালোচনা ও প্রশংসা লিখতেন। বিশেষ করে ‘তুঘলক’, ‘ক্রুসিবল’, ‘আরজ চরিতামৃত’, ‘বন্দুক যুদ্ধ’ ও ‘গাধার হাট’ নিয়ে আতাউর রহমানের মূল্যায়ন তাকে সারাজীবন অনুপ্রাণিত করেছে।
থিয়েটারের প্রতি আতাউর রহমানের নিষ্ঠার কথা উল্লেখ করে তারিক আনাম খান বলেন, ‘কোনো দিন শুনিনি বা দেখিনি তিনি দেরি করে রিহার্সালে এসেছেন। আতা ভাই রিহার্সাল কিংবা প্রদর্শনীতে থাকা মানেই মজা আর আনন্দের এক অনন্য পরিবেশ।’
উল্লেখ্য, বেশ কিছুদিন অসুস্থ থাকার পর গত সোমবার রাতে ৮৪ বছর বয়সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আতাউর রহমান। তিনি নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৭২ সালে ‘বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ’ নাটকের মাধ্যমে নির্দেশক হিসেবে তার যাত্রা শুরু। তার নির্দেশিত উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘গডোর প্রতীক্ষায়’, ‘গ্যালিলিও’, ‘ঈর্ষা’, ‘রক্তকরবী’ ও ‘অপেক্ষমাণ’।