মোদির অনুরোধে অমিত শাহকে বাঁচান শারদ পাওয়ার: সঞ্জয় রাওয়াত

রাকিবুল হাসান
প্রকাশ: বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০৫:৩৬ অপরাহ্ণ
মোদির অনুরোধে অমিত শাহকে বাঁচান শারদ পাওয়ার: সঞ্জয় রাওয়াত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক নতুন গুঞ্জন ও বিতর্ক তৈরি করেছেন শিবসেনা (ইউবিটি) দলের শীর্ষ নেতা ও রাজ্যসভার সংসদ সদস্য সঞ্জয় রাওয়াত। প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও আইনজীবী কপিল সিবালের জনপ্রিয় পডকাস্ট ‘দিল সে’-তে দেওয়া সাম্প্রতিক এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে রাওয়াত দাবি করেছেন, গুজরাটের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালীন অমিত শাহ যখন একটি গুরুতর আইনি জটিলতায় ফেঁসেছিলেন, তখন নরেন্দ্র মোদির অনুরোধে শারদ পাওয়ারই তাঁকে পর্দার আড়াল থেকে সাহায্য করেছিলেন।

পুরোনো ঘটনার স্মৃতিচারণ করে সঞ্জয় রাওয়াত জানান, সেই সময়ে নরেন্দ্র মোদি ছিলেন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী এবং এনসিপি সুপ্রিমো শারদ পাওয়ার ছিলেন কেন্দ্রের কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ (UPA) সরকারের প্রভাবশালী কৃষিমন্ত্রী। ওই সময়ে অমিত শাহের বিরুদ্ধে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছিল। রাওয়াতের দাবি অনুযায়ী, সেই তদন্তকারী দলের প্রায় সব সরকারি কর্মকর্তাকে ‘ম্যানেজ’ করা সম্ভব হলেও মহারাষ্ট্র ক্যাডারের একজন সৎ ও অনমনীয় অফিসার কিছুতেই বশ মানছিলেন না।

রাওয়াত বলেন, “সেই সংকটময় সময়ে মোদিজি বারবার শারদ পাওয়ারকে অনুরোধ করেছিলেন ওই নির্দিষ্ট অফিসারের সাথে একটু কথা বলতে। পাওয়ার সাহেব যখন জানতে চান কার জন্য এই তদবির বা সুপারিশ, মোদিজি উত্তর দিয়েছিলেন— অমিত শাহের জন্য। পাওয়ার সাহেব তখন আবার জিজ্ঞেস করেছিলেন, সে কে? মোদিজি তখন বলেছিলেন, অমিত শাহ তাঁর এক অত্যন্ত বিশেষ এবং দরকারি লোক।”

সঞ্জয় রাওয়াতের দাবি অনুযায়ী, নরেন্দ্র মোদির সেই ব্যক্তিগত ও আকুল অনুরোধে সাড়া দিয়ে শারদ পাওয়ার মহারাষ্ট্র ক্যাডারের ওই পুলিশ অফিসারকে সরাসরি একটি ফোনকল করেন এবং অমিত শাহকে সাহায্য করার মৌখিক নির্দেশ দেন। কেন্দ্রের প্রভাবশালী মন্ত্রীর কথা মেনেই পরবর্তীতে সেই অফিসার কিছুটা নমনীয় হন এবং অমিত শাহকে আইনি বড় জট থেকে ছাড় পেতে সাহায্য করেছিলেন।

অতীতের এই গোপন রাজনৈতিক সমীকরণের কথা টেনে এনে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সঞ্জয় রাওয়াত। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “এত বড় সাহায্য করার পরেও যখন এই মোদি-শাহ জুটি বা বিজেপি পাওয়ার সাহেবের নিজের দল ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি)-কে ভেঙে টুকরো করে দিল, তখন আমার খুব কষ্ট হয়। যে মানুষটি চরম বিপদের দিনে শত্রুতা ভুলে হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন, ক্ষমতার লোভে আজ তাঁর সাথেই এই চরম বিশ্বাসঘাতকতা করা হলো!”

সঞ্জয় রাওয়াতের এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পর ভারতের জাতীয় ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে শারদ পাওয়ার ও নরেন্দ্র মোদির সেই সময়ের ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক এবং বর্তমান রাজনৈতিক চরম বৈরিতার তুলনা টেনে বিজেপি ও এনসিপি-র (শারদ পাওয়ার গোষ্ঠী) মধ্যে নতুন করে বাকযুদ্ধ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিজেপি বা অমিত শাহের শিবিরের পক্ষ থেকে রাওয়াতের এই দাবির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া বা পাল্টা বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মন্তব্য করুন