ডিসি সম্মেলনে মিস ও ডিস-ইনফরমেশন নিয়ে তথ্যমন্ত্রীর নির্দেশনা

রাকিবুল হাসান
প্রকাশ: বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০৫:৫৯ অপরাহ্ণ
ডিসি সম্মেলনে মিস ও ডিস-ইনফরমেশন নিয়ে তথ্যমন্ত্রীর নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: মাঠ পর্যায়ে গুজব, অপপ্রচার এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভুল তথ্য (মিস-ইনফরমেশন ও ডিস-ইনফরমেশন) কঠোরভাবে মোকাবিলা করতে দেশের জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

বুধবার (৬ মে ২০২৬) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে চলমান চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ কার্য-অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী নিজেই এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের সরকার এবং রাষ্ট্রের একটা নিয়মিত ও রুটিন কর্মসূচি হিসেবে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে সরকারের এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন এবং পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও উপদেষ্টারা তাঁদের নিজ নিজ বিভাগের পরিকল্পনা ও পরামর্শগুলো ডিসিদের দিয়েছেন। আজ আমাদের নির্ধারিত পর্ব ছিল। আমরা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেশের সকল জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ মতবিনিময় করেছি এবং মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ দিয়েছি।”

গণমাধ্যমের আধুনিকায়ন ও সংস্কার প্রসঙ্গে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আমি যে কথাটি প্রতিনিয়ত বলে আসছি, ডিসিদের সাথে বৈঠকেও সেই একই কথা পুনর্ব্যক্ত করেছি—আমরা বর্তমানে একটি রূপান্তরিত গণমাধ্যম ইকোসিস্টেমের (Media Ecosystem) মধ্যে প্রবেশ করতে যাচ্ছি। এর আগের সরকারগুলো বা প্রশাসন এই রূপান্তরের পর্বটিকে খুব একটা গুরুত্ব দিয়ে ভালোভাবে চিহ্নিত করতে পারেনি; যার ফলে সব ধরনের চিন্তা, কথা এবং কাজ ছিল গৎবাঁধা। কিন্তু বর্তমান সরকার গৎবাঁধা চিন্তা বা কথায় বিশ্বাসী নয়। আমরা পুরো সমস্যাটিকে গোড়া থেকে ভালোভাবে বুঝতে চাই। সেই গভীর বোঝাপড়ার পর্বটা আমাদের এখনও চলমান রয়েছে এবং আমরা একেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।”

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জানান, যেসব সংস্কার কাজ অত্যন্ত জরুরি এবং এখনই হাত দেওয়া প্রয়োজন, সেগুলোকে অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, “মাঠ পর্যায়ে ছড়ানো বিভিন্ন মিস-ইনফরমেশন এবং ডিস-ইনফরমেশনকে ‘কমব্যাট’ বা অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে মোকাবিলা করা আমাদের প্রথম লক্ষ্য। স্থানীয় গণমাধ্যম ও মূলধারার সাংবাদিকদের সাথে সার্বক্ষণিক সংযোগ ও সমন্বয় বজায় রেখে এই বিশৃঙ্খলাকে একটি নিয়মনীতি এবং শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। আমরা সেই প্রক্রিয়ার দিকেই আমাদের পূর্ণ মনোযোগ দিচ্ছি।”

গণমাধ্যমের দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “সমস্যাটা কেবল সাময়িক বা ক্ষুদ্র কোনো বিষয়ে সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাদেশের সামগ্রিক গণমাধ্যমের সমস্যাটা অনেক বেশি ব্যাপক। কেননা আমাদের গণমাধ্যম এখনও একটি পুরোনো অ্যানালগ জায়গাতে দাঁড়িয়ে আছে, যাকে খুব দ্রুত একটি আধুনিক ও বিশ্বমানের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। এই লক্ষ্যে আমরা ডিসিদের অগ্রিম পরামর্শ দিয়েছি যেন তাঁরাও মাঠ পর্যায়ে প্রস্তুত থাকেন। তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যখন আমরা এই ডিজিটাল সক্ষমতা ও প্রযুক্তি নিয়ে পূর্ণাঙ্গভাবে হাজির হব, তখন জেলা প্রশাসকেরা যেন দ্রুততম সময়ে সরকারের সেই কর্মসূচিগুলোকে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সফলভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন।”

মন্তব্য করুন