এক সপ্তাহের অভিযানে ঢাকা জেলা পরিষদের দেড় কোটি টাকা রাজস্ব আদায়

কালীগঞ্জ মার্কেটে জেলা পরিষদের ‘একশন

এডমিন
প্রকাশ: বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০৬:৪৬ অপরাহ্ণ
এক সপ্তাহের অভিযানে ঢাকা জেলা পরিষদের দেড় কোটি টাকা রাজস্ব আদায়

ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ

দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতির ‘আঁতুড়ঘর’ হিসেবে পরিচিত ঢাকা জেলা পরিষদের কালীগঞ্জ মার্কেটে শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছে। অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের কঠোর অবস্থানের ফলে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় দেড় কোটি টাকা বকেয়া রাজস্ব আদায় করা হয়েছে। নবনিযুক্ত প্রশাসক ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদের আকস্মিক পরিদর্শনের পর এই বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সম্প্রতি গণমাধ্যমে জেলা পরিষদের অনিয়ম নিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। এরপরই কালীগঞ্জ মার্কেট পরিদর্শনে যান প্রশাসক ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ। পরিদর্শনকালে আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে শুরু করে চতুর্থ তলা পর্যন্ত নির্মাণে ভয়াবহ অনিয়ম, নকশা বহির্ভূত ভবন নির্মাণ এবং নদীর ঘাট দখল করে দোকান তৈরির মতো নানা অসঙ্গতি তার নজরে আসে।

তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। জেলা পরিষদের কোনো অনুমতি ছাড়াই সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে অসংখ্য অবৈধ দোকান। এছাড়া বরাদ্দ নিয়ে নিজে ব্যবসা না করে উচ্চমূল্যে অন্যদের কাছে ভাড়া দেওয়া, নিয়মিত রাজস্ব পরিশোধ না করা এবং এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে অবৈধ দোকান স্থাপনের অভিযোগ এখন প্রমাণিত। এমনকি ৬৮টি অবৈধ দোকান বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার তথ্যও পেয়েছে কর্তৃপক্ষ।

অভিযান চলাকালীন প্রশাসক বেশ কিছু অবৈধ দোকান তাৎক্ষণিকভাবে সিলগালা করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে দুর্নীতির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বকেয়া রাজস্ব দ্রুত আদায়ের কড়া বার্তা দেন তিনি। এর ফলশ্রুতিতেই গত সাত দিনে মার্কেটটি থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা রাজস্ব সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ গণমাধ্যমকে জানান, ঢাকা জেলার পাঁচটি উপজেলাসহ ২০টি সংসদীয় আসনের অধীনে থাকা জেলা পরিষদের প্রায় ৭০২ একর জমি জবরদখল হয়ে আছে। প্রভাবশালী মহল দীর্ঘদিন ধরে এই সম্পদ ভোগদখল করছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “এসব জমি উদ্ধারে শিগগিরই বড় ধরনের অভিযান চালানো হবে। কালীগঞ্জ মার্কেটের সব অনিয়ম দূর করে আমরা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।”

প্রশাসক আরও জানান, কেরানীগঞ্জে বন্ধ থাকা চুনকুটিয়া জিয়া অডিটোরিয়াম কাম কমিউনিটি সেন্টার এবং জিনজিরা কমিউনিটি সেন্টারের সংস্কারকাজ দ্রুত শুরু হবে। অতীতের ‘কমিশন বাণিজ্য’ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, “আগে উন্নয়নের নামে ভুয়া প্রজেক্ট দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এখন থেকে কোনো পার্সেন্টেজ বা কমিশন বাণিজ্য বরদাশত করা হবে না। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। প্রতিটি কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।”

মন্তব্য করুন