ক্রীড়াঙ্গনে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

রাকিবুল হাসান
প্রকাশ: বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০৬:৪৬ অপরাহ্ণ
ক্রীড়াঙ্গনে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

স্পোর্টস ডেস্ক: সীমান্ত ও রাজনৈতিক দীর্ঘস্থায়ী বৈরিতার জেরে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ভারত ও পাকিস্তানের ক্রীড়াভিত্তিক সম্পর্কের যে দড়ি আলগা হয়ে পড়েছিল, তা পুনর্গঠনে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে নয়া দিল্লি। বিশেষ করে ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের পেহেলগামে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা এবং এর জেরে দুই দেশের সামরিক সংঘাতের পর পাকিস্তানি অ্যাথলেটদের ভারতের ভিসা প্রাপ্তি নিয়ে তীব্র জটিলতা তৈরি হয়। সেই কঠোর অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে ভারতের ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।

গতকাল (৫ মে ২০২৬) ভারতীয় ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জারি করা এক আনুষ্ঠানিক চিঠিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, “ভারতে অনুষ্ঠিত যেকোনো বহুপাক্ষিক (আন্তর্জাতিক) ইভেন্টে পাকিস্তানি খেলোয়াড় এবং দল অংশ নিতে পারবে। তবে দ্বিপাক্ষিক ক্রীড়া ইভেন্টের ক্ষেত্রে ভারতীয় দল কোনোভাবেই পাকিস্তানে খেলতে যাবে না; একইভাবে পাকিস্তানি দলকেও দ্বিপাক্ষিক সিরিজের জন্য ভারতে খেলতে দেওয়া হবে না। আমরা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলোর প্রচলিত নিয়ম এবং আমাদের নিজস্ব ক্রীড়াবিদদের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখেই পরিচালিত হই।”

বাস্তবতা হলো, ২০১২ সালের পর থেকে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে কোনো দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট সিরিজ অনুষ্ঠিত হয়নি। কেবল আইসিসি বা এসিসির মতো আন্তর্জাতিক বহুপাক্ষিক ইভেন্টেই দুই দেশ মুখোমুখি হতো। সেই হিসেবে ভারতীয় ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের এই নতুন সিদ্ধান্তে চমকপ্রদ বা ভিন্ন কোনো বার্তা নেই; কেবল পেহেলগাম হামলাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানি অ্যাথলেটদের ভিসা সংক্রান্ত যে চরম জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তা কিছুটা কমতে পারে।

ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার ক্রিকেটীয় সম্পর্ক নিয়ে বিশ্বজুড়ে দর্শকদের ব্যাপক আগ্রহ থাকলেও ভারতের ‘পাকিস্তানে না যাওয়ার’ অনড় সিদ্ধান্তের কারণে এই নতুন ঘোষণা খুব একটা প্রভাব রাখতে পারবে না। কারণ, পাল্টা নীতি হিসেবে পাকিস্তানও ভারতের মাটিতে গিয়ে ক্রিকেটীয় কোনো ইভেন্ট না খেলার পথ ধরেছে (নির্দিষ্ট মেয়াদে)।

বর্তমানে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি ‘হাইব্রিড মডেল’ ক্রিকেটীয় চুক্তি রয়েছে, যা ২০২৭ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এই চুক্তির অধীনে— ভারতে কোনো বিশ্বকাপ বা এশিয়া কাপ থাকলে পাকিস্তানের ম্যাচের জন্য নিরপেক্ষ ভেন্যু (Neutral Venue) রাখতে হবে এবং একইভাবে পাকিস্তানে কোনো বৈশ্বিক ইভেন্ট থাকলে ভারতের ম্যাচগুলো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আয়োজন করতে হবে।

আন্তর্জাতিক ইভেন্ট আয়োজনে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভিসা নীতিতে বড় ছাড় দিয়েছে ভারত। ক্রীড়া মন্ত্রণালয় জানিয়েছে— আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নিতে আসা পাকিস্তানি ক্রীড়াবিদ, দলীয় কর্মকর্তা, টেকনিক্যাল স্টাফ এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তাদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা হবে। এমনকি আন্তর্জাতিক ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের দায়িত্বকালীন সময়ে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত “মাল্টি-এন্ট্রি ভিসা” অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেওয়া হবে।

ভারতীয় ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের এই নতুন ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন দেশটি নিজেকে একটি বৈশ্বিক ক্রীড়া গন্তব্য (Global Sports Hub) হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে। ভারত ২০৩০ সালে কমনওয়েলথ গেমস আয়োজন করবে এবং ২০৩৬ অলিম্পিক ও ২০৩৮ এশিয়ান গেমসের স্বত্ব পেতে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এছাড়া ২০২৯ সালে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এবং ২০Grid১ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপও আয়োজন করবে ভারত। ফলে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির নিয়ম মেনে সব দেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই এই ভিসা নীতি সংশোধন করা হলো।

এদিকে ভারতের মাটিতে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বন্ধ থাকলেও আগামী কয়েক মাসে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ভারত ও পাকিস্তানের ক্রীড়াবিদরা একাধিকবার মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী জুলাই-আগস্টে কমনওয়েলথ গেমস এবং সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে এশিয়ান গেমসে দুই দেশের লড়াই দেখা যাবে। এছাড়া হকিতেও অন্তত তিনবার দুই দেশ মুখোমুখি হবে— যার মধ্যে ২৩ ও ২৬ জুন লন্ডনে এফআইএইচ প্রো লিগ এবং ১৯ আগস্ট আমস্টারডাম বিশ্বকাপ অন্যতম।

মন্তব্য করুন