ইরাকের নতুন প্রধানমন্ত্রীর কাছে ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের কড়া বার্তা

রাকিবুল হাসান
প্রকাশ: বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০৬:৫৬ অপরাহ্ণ
ইরাকের নতুন প্রধানমন্ত্রীর কাছে ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের কড়া বার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরাকের পরবর্তী ও নতুন প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেশটিতে সক্রিয় ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব ও দৌরাত্ম্য কমাতে অত্যন্ত দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ আশা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (৫ মে ২০২৬) মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর কাছে ওয়াশিংটনের এই কড়া অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। (নোট: মূল প্রতিবেদনে অসাবধানতাবশত প্রকাশের বার ও তারিখ ‘মঙ্গলবার ৬ মে’ লেখা হয়েছে, যা প্রকৃতপক্ষে ৫ মে মঙ্গলবার ছিল)

ইরাকের বর্তমান ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক জোট নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আলি আল-জায়েদির নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব করার পরপরই তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে উষ্ণ অভিনন্দন পান। এর আগে ট্রাম্প কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছিলেন, ইরানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ইরাকের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নুরি আল-মালিকি যদি আবারও ক্ষমতায় আসেন, তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরাককে দেওয়া সব ধরনের অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তা চিরতরে বন্ধ করে দিতে পারে।

তবে জায়েদি মনোনীত হলেও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, “ইরানের সাথে ঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে ইরাকি রাষ্ট্রের সম্পর্কের যে ‘অস্পষ্ট সীমারেখা’ বা যোগসাজশ রয়েছে, তা সম্পূর্ণরূপে দূর করা নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য সবচেয়ে বড় ও জরুরি পরীক্ষা।”

উল্লেখ্য, ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের পর থেকে চলে আসা একটি বিশেষ দ্বিপাক্ষিক চুক্তির অধীনে আমেরিকার ‘ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক’ থেকে ইরাকের উৎপাদিত তেলের আয়ের নগদ ডলার লেনদেন ও সরবরাহ করা হতো। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরাকের মাটিতে মার্কিন স্বার্থ, সামরিক ঘাঁটি ও কূটনৈতিক মিশনগুলোর ওপর দফায় দফায় ড্রোন ও রকেট হামলার কারণে যুক্তরাষ্ট্র এই নগদ অর্থ সরবরাহ এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত সামরিক সহায়তা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।

মার্কিন ওই কর্মকর্তা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ইরাকে মার্কিন পূর্ণ সহায়তা পুনরায় চালু করতে হলে নতুন সরকারকে ৩টি প্রধান শর্ত পূরণ করতে হবে— রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান থেকে সশস্ত্র মিলিশিয়াদের সম্পূর্ণ সরিয়ে দিতে হবে, সরকারি বাজেট থেকে তাদের অনৈতিক অর্থায়ন চিরতরে বন্ধ করতে হবে এবং তাদের ক্যাডারদের বেতন প্রদানও বন্ধ করতে হবে। এসব দৃশ্যমান পদক্ষেপই কেবল যুক্তরাষ্ট্রের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে ইরাকে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোর ওপর ইরানপন্থি গোষ্ঠীগুলো ৬০০-র বেশি হামলা চালিয়েছে। তবে গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এই হামলার তীব্রতা কিছুটা কমে এসেছে; যদিও ইরাকি কুর্দিস্তানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মতে, এই জটিল আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দেওয়া নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য সহজ হবে না। তবে এর প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে আলি আল-জায়েদির একটি স্পষ্ট রাষ্ট্রীয় ও নীতিগত ঘোষণা— যেখানে সাফ বলা হবে যে, এসব সশস্ত্র মিলিশিয়া গোষ্ঠী কোনোভাবেই ইরাকি রাষ্ট্রের অংশ নয়। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, ইরাকের কিছু ভেতরের রাষ্ট্রীয় বিভাগ এখনও এই গোষ্ঠীগুলোকে পর্দার আড়াল থেকে রাজনৈতিক, আর্থিক ও কার্যকরী সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে, যা বন্ধ হওয়া জরুরি।

মন্তব্য করুন