গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ

গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম বিভাগ-৮ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু তালেবের বিরুদ্ধে বিসিএস ক্যাডার না হয়েও পদ পরিচয় ধারণ, জ্যেষ্ঠতা জালিয়াতি এবং কাজ না করেই কোটি কোটি টাকার বিল তুলে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা পড়া এক অভিযোগে তার বিরুদ্ধে অন্তত ১৬টি প্রকল্পে কাজ না করেই ৫ কোটি ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা আত্মসাতের তথ্য উঠে এসেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, আবু তালেব কোনো বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হয়েও বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাবে ক্যাডার পদে নিয়োগ পান। তিনি ২৭তম বিসিএস কর্মকর্তাদের ডিঙিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে জ্যেষ্ঠতা অর্জন করেন এবং দ্রুততম সময়ে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি বাগিয়ে নেন। একজন নন-ক্যাডারের এভাবে ক্যাডার পরিচয়ে পদোন্নতি পাওয়াকে নজিরবিহীন বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ১৬টি উন্নয়ন ও মেরামত কাজে আবু তালেবের দুর্নীতির চিত্র ফুটে উঠেছে। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল (১ কোটি ১৩ লাখ টাকা), জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট (৫৬.৩ লাখ টাকা) এবং ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউটসহ (৩৬.১২ লাখ টাকা) বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে কোনো সংস্কার কাজ না করেই ঠিকাদারদের যোগসাজশে পুরো বিল তুলে নেওয়া হয়েছে। সরেজমিনে এসব প্রতিষ্ঠানে কাজের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এছাড়া প্রতিটি প্রাক্কলন অনুমোদনের আগেই তাকে ১০ শতাংশ নগদ কমিশন দিতে হতো বলে অভিযোগ করেছেন প্রথম শ্রেণির ঠিকাদাররা।

কাজ না করে বিল উত্তোলনের বিষয়টি আড়াল করতে আবু তালেব ‘ব্যাকডেটেড’ বা পূর্ববর্তী তারিখের ভুয়া প্রত্যয়নপত্র তৈরি করে নথিতে যুক্ত করেছেন। অবৈধ আয়ের মাধ্যমে তিনি ঢাকা ও এর আশপাশে নামে-বেনামে একাধিক ফ্ল্যাট, প্লটসহ বিপুল সম্পদের পাহাড় গড়েছেন বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতোমধ্যে অভিযোগটি আমলে নিয়ে নথিপত্র যাচাই শুরু করেছে।

এ.আই.এল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন