আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চীনের রাজধানী বেইজিং চলতি মাসে বৈশ্বিক কূটনীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সফর ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ১৯–২০ মে চীন সফরে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। তার এই সফরের কয়েক দিন আগেই ট্রাম্প বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শেষ করেন।
চীন ও রাশিয়ার মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্বের ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে শি জিনপিং ও ভ্লাদিমির পুতিন শুভেচ্ছা বার্তা বিনিময় করেন। চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, দুই দেশের সহযোগিতা ক্রমাগত আরও গভীর ও সুসংহত হয়েছে।
২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও চীন রাশিয়ার অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহায়তা অব্যাহত রেখেছে। জ্বালানি বাণিজ্যে দুই দেশের সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এশিয়ার এই দুই বৃহৎ শক্তির মধ্যে ক্রমবর্ধমান সহযোগিতা বৈশ্বিক জ্বালানি ও ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে।
অন্যদিকে ট্রাম্পের বেইজিং সফরে মূলত বাণিজ্য, তাইওয়ান ও মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। তবে ইউক্রেন যুদ্ধ ইস্যুটি আলোচনায় তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব পায়।
তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেন, যা দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার আরেকটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের তিন বৃহৎ শক্তির শীর্ষ নেতাদের এমন ঘনঘন সফর বিরল এবং এটি বর্তমান বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।