ঘরোয়া রূপচর্চায় যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন

প্রকাশ: সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ০৪:২৯ অপরাহ্ণ
ঘরোয়া রূপচর্চায় যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন

লাইফস্টাইল ডেস্ক: ত্বকের প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ও সতেজতা বাড়াতে যুগ যুগ ধরে নারীরা ঘরোয়া নানা উপকরণের ওপর ভরসা করে আসছেন। আজকাল ইন্টারনেটের যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘরোয়া রূপচর্চার নানামুখী টিপস ও তথ্যের ছড়াছড়ি দেখা যায়। কাচের মতো চকচকে ত্বক পেতে অনেকেই আবার কোনো কিছু না ভেবেই সেসব চটকদার টিপস হুবহু অনুসরণ করা শুরু করেন।

তবে মনে রাখা জরুরি, ইন্টারনেটে দেখা সব পরামর্শই কিন্তু সব ধরনের ত্বকের জন্য উপকারী নয়। না বুঝে বা ত্বকের ধরন না জেনে এসব উপাদান মুখে ব্যবহার করলে উপকারের চেয়ে উল্টো বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। তাই ঘরোয়া রূপচর্চার ক্ষেত্রে কিছু মারাত্মক ভুল অবশ্যই এড়িয়ে চলা উচিত:

অনেকেরই ধারণা, চিনি দিয়ে স্ক্রাব করলে মুখের মরা চামড়া ও গভীরের ময়লা দ্রুত পরিষ্কার হয়। তবে সৌন্দর্য বিশেষজ্ঞদের মতে এটি একদমই ঠিক নয়। চিনির দানাগুলো বেশ খসখসে ও ধারালো হয়, যা মুখের স্পর্শকাতর ও নরম ত্বকে সরাসরি ঘষলে চামড়া ছিলে যাওয়ার প্রবল ঝুঁকি থাকে। এর ফলে ত্বকে জ্বালাপোড়া ও নানা ধরনের জীবাণুঘটিত সংক্রমণ ছড়াতে পারে।

শীতকাল কিংবা গরমকাল যেকোনো ঋতুতেই মুখের ত্বকে সরাসরি গরম পানি ব্যবহারের অভ্যাস অত্যন্ত ক্ষতিকর। নিয়মিত গরম পানি দিয়ে মুখ ধুলে ত্বকের ভেতরের স্বাভাবিক তেল ও আর্দ্রতা (Moisture) পুরোপুরি কমে যায়। এর ফলে ত্বক অতিরিক্ত রুক্ষ, শুষ্ক ও প্রাণহীন হয়ে পড়ে, যা দ্রুত বলিরেখা পড়ার অন্যতম কারণ।

আজকাল ইন্টারনেটে ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন ভিডিও দেখে নাকের বা মুখের ব্ল্যাকহেডস ও হোয়াইটহেডস তোলার জন্য অনেকে ত্বকে সরাসরি সাধারণ আঠা বা গ্লু লাগান। এটি ত্বকের সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আঠা ব্যবহারের ফলে ত্বকের লোমকূপের ছিদ্রগুলো পাকাপাকিভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যার ফলে পরবর্তীতে মারাত্মক ব্রণ বা অ্যালার্জির সৃষ্টি হয়।

অনেকেরই একটি ভুল ধারণা রয়েছে যে, ব্রণের ওপর টুথপেস্ট লাগিয়ে রাখলে তা দ্রুত শুকিয়ে যায়। টুথপেস্টে থাকা কিছু উপাদান সাময়িকভাবে ব্রণকে সংকুচিত করলেও, এটি ত্বকের ভেতরের টিস্যুগুলোকে পুড়িয়ে ফেলে। এর ব্যবহারে পরবর্তীতে ত্বকে কালো দাগ এবং বড় ধরনের চর্মরোগের সংক্রমণ হতে পারে।

লেবুতে থাকা সাইট্রিক অ্যাসিড ত্বকের জন্য উপকারী হলেও তা কখনো সরাসরি মুখে মাখা উচিত নয়। সরাসরি লেবুর রস মুখে লাগালে তা ত্বকের মেলানিন ও সেই বিশেষ উপাদানগুলোকে স্থায়ীভাবে নষ্ট করে দেয়, যা আমাদের ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর বেগুনি রশ্মি বা রোদ থেকে বাঁচায়। ফলে ত্বক রোদে আরও দ্রুত পুড়ে যায়।

ত্বক ফর্সা করার লোভে অনেকেই মুখে বেকিং সোডা ব্যবহার করেন, যা ত্বকের জন্য এক ধরনের অ্যাসিডের মতো কাজ করে। বেকিং সোডা অত্যন্ত ক্ষারীয় একটি উপাদান। এটি মুখে দিলে ত্বকের স্বাভাবিক পিএইচ (pH) মাত্রা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। সেই সঙ্গে ত্বক খসখসে হয়ে যাওয়া, লালচে ভাব এবং দীর্ঘমেয়াদি চর্মরোগ দেখা দিতে পারে।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন