রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে যায় যেসব কারণে

প্রকাশ: সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ০৩:১২ অপরাহ্ণ
রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে যায় যেসব কারণে

লাইফস্টাইল ডেস্ক: রক্তে সুগার বা শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক সীমার মধ্যে রাখা সুস্থ জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনি ডায়াবেটিস বা প্রি-ডায়াবেটিসে ভুগুন আর নাই ভুগুন, রক্তে সুগারের মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত হলে তা শরীরের নানা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।

সাধারণত রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত চিনি, মিষ্টি এবং কার্বোহাইড্রেট বা শর্করাযুক্ত খাবার থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। তবে কেবল খাবারদাবারই নয়, আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এমন কিছু সাধারণ ও আপাতদৃষ্টিতে অজাগতিক অভ্যাস বা কারণ রয়েছে, যা রক্তে সুগারের পরিমাণ হু হু করে বাড়িয়ে দিতে পারে। জেনে নিন এমন কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত কারণ সম্পর্কে

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত মানসিক চাপ আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা সরাসরি বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য দায়ী। শরীর যখন অতিরিক্ত মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যায়, তখন কিছু হরমোন নিঃসৃত হয় যা সুগারের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া মানসিক চাপ অনেক সময় মানুষের ক্ষুধা বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে আইসক্রিম, চকলেট বা মিষ্টি জাতীয় খাবারের প্রতি আসক্তি তৈরি হয়। তাই সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত ইয়োগা, মেডিটেশন বা পছন্দের কাজের মাধ্যমে মানসিক চাপ মুক্ত থাকা জরুরি।

প্রতি রাতে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টার পর্যাপ্ত ঘুম শুধু আপনার বাহ্যিক সৌন্দর্য বা সতেজতার জন্যই নয়, বরং রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখার জন্যও সমান জরুরি। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীর ইনসুলিন হরমোন ব্যবহারের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। ফলে রক্তে থাকা শর্করা শক্তিতে রূপান্তরিত না হয়ে রক্তেই জমা হতে থাকে। তাই অনিদ্রার সমস্যা থাকলে দ্রুত এর কারণ খুঁজে সমাধান করা উচিত।

অনেকেরই ধারণা, সাধারণ চিনি বাদ দিয়ে বাজারে প্রচলিত কৃত্রিম মিষ্টি বা কেমিক্যালযুক্ত ‘সুগার-ফ্রি’ ট্যাবলেট-পাউডার ব্যবহার করলে রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তবে অসংখ্য বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত খাদ্যতালিকায় কৃত্রিম মিষ্টি যোগ করলে তা উল্টো শরীরের ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বাড়িয়ে দেয় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা দীর্ঘমেয়াদে বৃদ্ধি করে।

কফিতে থাকা ক্যাফেইন উপাদান সরাসরি ইনসুলিনের মাত্রার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আপনি যদি সাধারণ চিনি কিংবা কৃত্রিম মিষ্টি ছাড়াও ব্ল্যাক কফি পান করেন, অতিরিক্ত পানের কারণে সেটিও সুগারের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই যারা কফিপ্রেমী এবং রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে চান, তাদের পরিমিত পরিমাণে কফি পানের অভ্যাস করা উচিত। সেই সঙ্গে অন্যান্য ক্যাফেইনযুক্ত কোমল পানীয় বা এনার্জি ড্রিংকস পুরোপুরি এড়িয়ে চলা ভালো।

শরীরে পানির ঘাটতি হলে কোষ্ঠকাঠিন্য হয় কিংবা ত্বকে শুষ্কতা ও বলিরেখা দেখা দেয়—তা অনেকেই জানেন। তবে এটা অনেকেই জানেন না যে, পানিশূন্যতার কারণে রক্তে সুগারের ঘনত্ব হুট করে বেড়ে যেতে পারে। শরীরে পর্যাপ্ত পানি না থাকলে রক্তের জলীয় অংশ কমে যায়, ফলে রক্তে থাকা শর্করার ঘনত্ব বা পরিমাণ অনেক বেশি দেখায়। তাই বিশেষ করে যারা ডায়াবেটিস বা প্রি-ডায়াবেটিসে ভুগছেন, তাদের প্রতিদিন অন্তত ২ থেকে আড়াই লিটার (৮-১০ গ্লাস) বিশুদ্ধ পানি পান করা আবশ্যিক।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন