কেয়ারটেকার নির্যাতন: ডিবির ওসিসহ ৩ জন ক্লোজড

কেয়ারটেকার নির্যাতন: ডিবির ওসিসহ ৩ জন ক্লোজড

শুভ সমদ্দার, স্টাফ রিপোর্টার (পিরোজপুর): পিরোজপুরে চুরির অপবাদ দিয়ে পুলিশ অফিসার্স মেসের এক অস্থায়ী কেয়ারটেকারকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ডিবি পুলিশের ওসি মো. আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। নির্যাতনের এক পর্যায়ে মোম গলিয়ে ভুক্তভোগীর পুরুষাঙ্গে ঢেলে ঝলসে দেওয়া এবং বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার মতো চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।

ভুক্তভোগী মো. ইউনুস ফকির (৪০) পিরোজপুর সদর উপজেলার খানাকুনিয়ারি গ্রামের মৃত মোবারক আলী ফকিরের ছেলে। তিনি পুলিশ অফিসার্স মেসে অস্থায়ী কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করতেন। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৩ এপ্রিল ডিবির ওসি আরিফুল ইসলামের কক্ষের চাবি হারিয়ে যাওয়া এবং ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা চুরির অভিযোগে ইউনুসকে দোষারোপ করা হয়।

টাকা চুরির কথা অস্বীকার করায় ইউনুসকে হাতকড়া পরিয়ে শারীরিক নির্যাতন ও বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয়। ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, ইউনুস চিৎকার করলে তাঁর মুখে লাঠি ঢুকিয়ে দেওয়া হয় এবং রান্নাঘরে নিয়ে গরম মোম গলিয়ে তাঁর পুরুষাঙ্গে ঢেলে ঝলসে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে পরিবারের কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায় করা হলেও মূল চোর হিসেবে মেসের ঝাড়ুদার শাকিল শনাক্ত হয় এবং টাকা উদ্ধার হয়।

নির্যাতনের বিষয়টি গোপন রাখতে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের এক কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে বেসরকারি ক্লিনিকে ইউনুসকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এমনকি খুলনার একটি হাসপাতালে নেওয়ার পর ইউনুসকে বলতে বাধ্য করা হয় যে, স্ত্রীর সাথে ঝগড়া করে তিনি নিজেই নিজের শরীর পুড়িয়েছেন। বিষয়টি চেপে যাওয়ার বিনিময়ে ডিবির পক্ষ থেকে ভুক্তভোগীকে কর্মসংস্থানের প্রলোভনও দেওয়া হয়।

অভিযুক্ত ডিবি ওসি আরিফুল ইসলাম বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন এবং বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য সাংবাদিকদের অনুরোধ জানিয়েছেন। 

পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী জানান, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ডিবির ওসি আরিফুল ইসলামসহ তিনজনকে ক্লোজ করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং সত্যতা পেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

এ.আই.এল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন