দাম কম, বৃষ্টির ধাক্কা: বিপাকে কক্সবাজারের ৪২ হাজার লবণচাষি

দাম কম, বৃষ্টির ধাক্কা: বিপাকে কক্সবাজারের ৪২ হাজার লবণচাষি

চাষিদের আর্তনাদ: লোকসান ও অনিশ্চয়তা

টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের চাষি আবদুল জলিল জানান, এক মণ লবণ উৎপাদনে খরচ হয় ২৯০ টাকা, অথচ বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ২৪০ থেকে ২৫০ টাকায়। গত ৭ ও ৮ এপ্রিলের বৃষ্টিতে মাঠ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নতুন করে বিনিয়োগের সাহস পাচ্ছেন না চাষিরা।

মহেশখালীর চাষি আনচার উল্লাহর ২৫০ মণ লবণ বৃষ্টিতে ভেসে গেছে। চাষিদের মতে, কুয়াশার কারণে এবার চাষ শুরু করতে ২৫ দিন দেরি হয়েছিল, আবার বৃষ্টির কারণে ২০ দিন আগেই মাঠ ছাড়তে হচ্ছে। ফলে উৎপাদন প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

বিসিকের তথ্য: লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শঙ্কা

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) হিসাব অনুযায়ী:

  • উৎপাদন চিত্র: ৬ এপ্রিল পর্যন্ত লবণের উৎপাদন ১৩ লাখ ৭৩ হাজার মেট্রিক টন, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৪.৫ লাখ মেট্রিক টন কম।

  • লক্ষ্যমাত্রা ও চাহিদা: চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা ২৮ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন, যেখানে চাহিদা ২৭ লাখ ৩৫ হাজার মেট্রিক টন।

  • মজুত: বর্তমানে মাঠ ও মিল পর্যায়ে ১০ লাখ ৭০ হাজার মেট্রিক টন লবণ মজুত রয়েছে।

সিন্ডিকেট ও আমদানির ভয়

কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও লবণচাষি লুৎফুর রহমান কাজল জানান, চাষিরা একদিকে ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না, অন্যদিকে একটি সিন্ডিকেট লবণের সংকটের অজুহাত দেখিয়ে আমদানির পায়তারা করছে। লবণ আমদানি করা হলে প্রান্তিক চাষিরা পথে বসবেন। উল্লেখ্য, এই শিল্পের সঙ্গে জেলার প্রায় ১০ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত।

বিসিকের উপমহাব্যবস্থাপক মো. জাফর ইকবাল ভূঁইয়া জানিয়েছেন, দুর্যোগ ও প্রতিকূল পরিবেশের কারণে জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন