ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: ষড়ঋতুর বাংলাদেশে গ্রীষ্মের রুক্ষতাকে ছাপিয়ে প্রকৃতিতে এখন লালের রাজত্ব। কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার পথে-প্রান্তরে দগদগে লাল রঙে ছেয়ে গেছে কৃষ্ণচূড়া গাছগুলো। তপ্ত রোদ আর শুষ্ক আবহাওয়ার মাঝেও এই 'আগুনরাঙা' ফুল প্রকৃতিতে এনেছে নতুন প্রাণের সঞ্চার, যা মুগ্ধ করছে পথচারী ও প্রকৃতিপ্রেমীদের।
প্রকৃতিতে লালের ছোঁয়া: সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বাড়ির আঙিনা ঘুরে দেখা গেছে, সবুজ পাতার ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে থোকায় থোকায় লাল কৃষ্ণচূড়া। দূর থেকে দেখে মনে হয় যেন সবুজের বুকে আগুনের শিখা জ্বলছে। বৈজ্ঞানিক নাম ডেলোনিক্স রেজিয়া (Delonix regia) হলেও এটি গ্রামবাংলায় গুলমোহর বা রক্তচূড়া নামেও পরিচিত। কিশোরী ও তরুণীরা এই ফুল দিয়ে সাজাচ্ছেন নিজেদের খোঁপা, আর শিশুরা হাতে নিয়ে মেতে উঠছে আনন্দে।
আবেগ ও সৌন্দর্যের মেলবন্ধন: স্থানীয় কলেজ শিক্ষার্থী জেনিফা রহমান মারিয়াম বলেন, "কৃষ্ণচূড়া শুধু ফুল নয়, এটি আমাদের আবেগের অংশ। চলতি পথে এই ফুল দেখে যেকোনো মানুষের মন ভালো হয়ে যায়।" পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এই গাছের গুরুত্ব তুলে ধরে স্কুল শিক্ষক আমির হোসেন বলেন, কৃষ্ণচূড়া কেবল সৌন্দর্যই দেয় না, গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমে পথচারীদের শীতল ছায়াও প্রদান করে। তবে প্রকৃতি থেকে ক্রমশ এই গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় তিনি নতুন করে চারা রোপণের দাবি জানান।
ভেষজ গুণাগুণ: ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার (ইউনানি) সোহেল রানা জানান, কৃষ্ণচূড়ার নান্দনিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি রয়েছে ঔষধি গুণ। ইউনানি শাস্ত্রে শরীরের প্রদাহ কমানো, ক্ষত শুকানো এবং ত্বকের বিভিন্ন সমস্যায় এই গাছের পাতা ও ফুলের নির্যাস ব্যবহার করা হয়। মানসিক ও শারীরিক সুস্থতায়ও এই প্রাকৃতিক পরিবেশ ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
গ্রীষ্মের এই সময়ে কৃষ্ণচূড়ার নজরকাড়া সৌন্দর্য উপভোগ করতে এখন ভিড় বাড়ছে উপজেলার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে, যেখানে অনেকেই মোবাইল ফোনে ফ্রেমবন্দী করছেন প্রকৃতির এই অপার দানকে।
জান্নাত/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ