কুমিল্লা-চাঁদপুরে ৩৭৬ নলকূপে আর্সেনিক ঝুঁকি

প্রকাশ: বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫১ অপরাহ্ণ
কুমিল্লা-চাঁদপুরে ৩৭৬ নলকূপে আর্সেনিক ঝুঁকি

হাবিবুর রহমান মুন্না (কুমিল্লা): কুমিল্লা ও চাঁদপুরে ১ হাজার ৫৯৮টি নলকূপের আর্সেনিক ঝুঁকি মূল্যায়নে অত্যন্ত উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। স্মার্টফোনভিত্তিক ‘আই-আর্সেনিক’ অ্যাপের প্রাথমিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, ২৭ দশমিক ৬ শতাংশ নলকূপ উচ্চ বা গুরুতর ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে ৩৭৬টি ঝুঁকিপূর্ণ নলকূপ এখনো সুপেয় পানির উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) কুমিল্লা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গবেষক দল এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করে। মূল্যায়ন করা নলকূপগুলোর মধ্যে চাঁদপুরের ১ হাজার ১৩২টি এবং কুমিল্লার ৪৬৬টি রয়েছে। গবেষকদের মতে, নলকূপের ভৌগোলিক অবস্থান, গভীরতা ও কলতলায় জমে থাকা রঙের দাগ বিশ্লেষণ করে এক মিনিটেরও কম সময়ে সম্ভাব্য ঝুঁকি নির্ধারণ করতে পারে অ্যাপটি।

তবে গবেষকেরা স্পষ্ট করেছেন যে, অ্যাপের ফলাফল আর্সেনিকের শতভাগ রাসায়নিক মাত্রা নিশ্চিত করে না। তাই চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ নলকূপের পানি দ্রুত ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে নিরাপদ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সেসব নলকূপের বদলে বিকল্প সুপেয় পানির উৎস ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন বিজ্ঞ গবেষকেরা।

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব পোর্টসমাউথের নেতৃত্বে ও অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় এই উদ্ভাবনী প্রযুক্তিটি তৈরি করা হয়েছে। বাংলাদেশে অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (এডাস্ট) শিক্ষার্থীরা মাঠপর্যায়ে অ্যাপটি ব্যবহার করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে এডাস্টের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান শামসুল আলম, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. জাবের আহমেদ এবং কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. আশরাফ দেওয়ান বক্তব্য দেন। বক্তারা আর্সেনিক সংকট নিরসনে নিয়মিত পানি পরীক্ষা, নিরাপদ পানির অল্টারনেটিভ উৎস সরবরাহ এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত পদক্ষেপের ওপর জোর দাবি জানান।

এআইএল/সকালবেলা