জুলাই আন্দোলনের মোহাম্মদপুরের হত্যা মামলায় শেখ হাসিনার বিচার শুনানি ২৪ সেপ্টেম্বর
আদালত প্রতিবেদক: জুলাই গণ-আন্দোলনের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মালবাহী ট্রাকচালক মো. হোসেনকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৪ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি পিছিয়ে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।
আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলম শুনানি পেছানোর এ আদেশ দেন। এ নিয়ে মামলাটির অভিযোগ গঠন শুনানির দিন ধার্য টানা ষষ্ঠবারের মতো পেছাল।
আদালতের নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, এর আগে ধার্য তারিখে বিভিন্ন আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতায় গত ২৮ এপ্রিল, ২১ মে, ২৫ জুন, ২৬ জুলাই ও ১৩ আগস্ট—মোট পাঁচ দফায় অভিযোগ গঠন শুনানি পেছানো হয়েছিল।
আদালত সূত্রে জানা যায়, আজ মামলার অভিযোগ গঠন শুনানির নির্ধারিত দিনে কারাবন্দী আসামি সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খান এবং মোহাম্মদপুরের সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর সলিম উল্লাহ সলুকে কঠোর পুলিশি নিরাপত্তায় আদালতে হাজির করা হয়। তবে মামলার অপর গুরুত্বপূর্ণ কারাবন্দী আসামি সাবেক তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে কারা কর্তৃপক্ষ আদালতে হাজির করতে ব্যর্থ হয়। ফলে আদালত অভিযোগ গঠন শুনানি স্থগিত রেখে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর শুনানির নতুন দিন ধার্য করেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী জুলাই গণ-আন্দোলনের উত্তাল সময়ে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নির্বিচার গুলিতে মালবাহী ট্রাকচালক মো. হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। ওই ঘটনায় সাজ্জাদ ও শাহিন নামে আরও দুই পথচারী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক আহত হন।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী মোসা. রীনা বেগম বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে মোহাম্মদপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটির দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ২৩ নভেম্বর মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. আকরামুজ্জামান শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন।
মামলার চার্জশিটভুক্ত উল্লেখযোগ্য অন্য আসামিরা হলেন—সাবেক সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক এমপি সাদেক খান, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
এ ছাড়া চার্জশিটে আরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন আসিফ আহম্মেদ, তারেকুজ্জামান রাজীব, শেখ বজলুর রহমান, নুর মোহাম্মদ সেন্টু, তোফায়েল সিদ্দিক ওরফে তুহিন, রহমান মিয়া ওরফে এ কে এম অহিদুর রহমান, পলাশ, ওলিউর রহমান, খলিলুর রহমান, ইমন, এস এম রিয়াজুল হক তামিম, মাসুদুর রহমান বিপ্লব, আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া ওরফে এম এ সাত্তার, পারভেজ ওরফে গোল্ডেন পারভেজ, সুমন মিয়া ওরফে কাইল্লা সুমন, মিলন হোসেন, সোহেল ওরফে ভূঁইয়া সোহেল ওরফে বুনিয়া সোহেল, সলিম উল্লাহ সলু, ইরফান, মুহাম্মদ বদিউল আলম ওরফে বদিউজ্জামান, ফুরকান হোসেন, শাহজাহান খান, সাজ্জাদ হোসেন, ফারুক হোসেন অভি এবং নাঈমুল হাসান রাসেল।