মুকসুদপুরে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৫ অপরাহ্ণ
মুকসুদপুরে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ

রাসেল শেখ, মুকসুদপুর (গোপালগঞ্জ): গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড় ইউনিয়নে সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত জমি ও জলাশয় দখল, ভরাট, স্থাপনা নির্মাণ এবং এসবকে কেন্দ্র করে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সংবাদকর্মীদের হুমকির মুখে পড়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

জলিরপাড় ইউনিয়নের কলিগ্রামের ওয়াইএমসির দক্ষিণ পাশে সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত জমিতে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, জমিটি ব্যক্তিগতভাবে বিক্রি বা হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় অসীম মাঝি ও লিপ্টন বৈরাগীর বিরুদ্ধে যথাক্রমে জমি বিক্রি ও অবৈধভাবে ক্রয়ের অভিযোগ উঠেছে। তবে জমিটির প্রকৃত মালিকানা, খতিয়ান, দাগ নম্বর ও লেনদেনের বৈধতা সরকারি রেকর্ড ও নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

স্থানীয়দের তথ্য মতে, তালবাড়ি থেকে দক্ষিণ জলিরপাড়ের শান্তিপুর পর্যন্ত এলাকায় আগে সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলেও পরবর্তীতে সেখানে পুনরায় প্রায় ১৫০-২০০টি ঘর, দোকান ও অন্যান্য স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এতে উচ্ছেদ-পরবর্তী সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এ ছাড়া দক্ষিণ জলিরপাড়ে একটি সরকারি জলাশয়ের অংশ বালু দিয়ে ভরাট করে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, জলাশয় ভরাট ও স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ দেওয়ার বিনিময়ে জলিরপাড় ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক মৃধার বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয়রা পূর্বে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ ও মানববন্ধনও করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (তহশিলদার) আব্দুর রাজ্জাক মৃধার বক্তব্য জানতে গেলে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও মামলা করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সংবাদকর্মীদের দাবি, তিনি তথ্যদাতার পরিচয় জানতে চান এবং একপর্যায়ে মামলা করার হুমকি দেন। তবে সরকারি জমি দখলের বিষয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দিয়েছেন বলে জানান।

এ বিষয়ে মুকসুদপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জানান, ১৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় সীমিত জনবল ও লজিস্টিক সাপোর্টের কারণে সব এলাকায় একসঙ্গে সময় দেওয়া সম্ভব হয় না। সরকারি খাস জমি দখল আমলযোগ্য অপরাধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ প্রশাসনেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

কলিগ্রামের সরকারি জমিতে নির্মাণকাজের বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেন, "ঘরের লোক যদি বেড়া কাটে, তাহলে আর কী করার থাকে?" একই সঙ্গে তহশিলদার আব্দুর রাজ্জাক মৃধার কার্যক্রমে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, "আমি আব্দুর রাজ্জাকের কাজে সন্তুষ্ট নই।"

সরকারি খাস জমি দখল, জলাশয় ভরাট, ঘুষ-দুর্নীতি ও সাংবাদিকদের হুমকির প্রেক্ষাপটে দ্রুত সরেজমিন তদন্ত, খতিয়ান-দাগভিত্তিক রেকর্ড যাচাই এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে সরকারি সম্পত্তি স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন