হিমসাগর-গোপালভোগ আম চিনবেন যেভাবে

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ০১:৩৬ অপরাহ্ণ
হিমসাগর-গোপালভোগ আম চিনবেন যেভাবে

লাইফস্টাইল ডেস্ক: চারদিকে কেমিক্যালের কারসাজি আর ভেজালের ভিড়ে আসল বা খাঁটি জিনিস চেনা আজকাল বেশ মুশকিল হয়ে পড়েছে। প্রকৃতিতে এখন মধুমাস অর্থাৎ আম-কাঁঠালের সুস্বাদু মৌসুম শুরু হয়েছে। তাই বাজারে আসা হরেক রকমের ফলের ভিড়ে আপনার পছন্দের আমের জাতটি সহজে চিনে নেওয়ার কিছু চাক্ষুষ ও সহজ পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন।

সাধারণ মানুষ বাজারে গিয়ে সেরা জাতের ‘হিমসাগর’ বা ‘গোপালভোগ’ আম কিনতে গিয়ে বিভ্রান্ত হওয়াটাই খুব স্বাভাবিক। বাজারে এমন অনেক হাইব্রিড জাতের আম রয়েছে, যা প্রথম দেখায় অবিকল হিমসাগর বলে মনে হতে পারে। আমের সঠিক জাত ও বৈশিষ্ট্য চেনা থাকলে এই প্রতারণা বা বিভ্রান্তি এড়ানো সম্ভব। চলুন জেনে নেওয়া যাক কীভাবে সহজেই চিনবেন হিমসাগরসহ অন্যান্য জনপ্রিয় জাতের আম:

হিমসাগর আম বাঙালির চোখের মণি এবং আমের রাজা বলা চলে এই জাতটিকে। সাধারণত মে মাসের শুরুতেই এই আম বাজারে চলে আসে, তবে এর স্থায়িত্ব বা আয়ু বেশ কম সময় থাকে। হিমসাগর চেনার প্রধানতম উপায় হলো এর গায়ের চিরচেনা রং। এই আম সম্পূর্ণ পেকে গেলেও এর বাইরের খোসা কিন্তু সবসময় সতেজ সবুজই থাকে, কখনোই পুরোপুরি হলুদ হয় না। তবে আমটি কাটলে এর ভেতরটা হয় গাঢ় উজ্জ্বল হলুদ। মাঝারি আকারের এই আমের স্বাদ অত্যন্ত মিষ্টি ও আঁশহীন হয়ে থাকে। অবশ্য এর তীব্র ও আকর্ষণীয় ঘ্রাণেই লুকিয়ে থাকে হিমসাগরের আসল পরিচয়।

গোপালভোগ আম মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই বাজারে এই আমের আনাগোনা শুরু হয়। জানা যায়, বাংলাদেশের নরহাট্টার ‘গোপাল’ নামের এক শৌখিন ব্যক্তির হাত ধরে এই আমের চাষ শুরু হয়েছিল বলেই এর নাম রাখা হয় ‘গোপালভোগ’। এই আম চেনার উপায় হলো এর সবুজ খোসার গায়ে হালকা বা ছোপ ছোপ হলুদ দাগ থাকে। তবে আমটি গাছপাকা বা পুরোপুরি পেকে গেলে এর খোসা একেবারে টুকটুকে নিরেট হলুদ রং ধারণ করে। এর সুগন্ধ এবং মিষ্টি স্বাদ অতুলনীয়।

গোলাপখাস আম নামের মধ্যেই লুকিয়ে আছে এই আমের সার্থকতা। প্রাচীন বাংলার ঐতিহ্যবাহী আমগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো এই গোলাপখাস। এই আমের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর রাজকীয় ঘ্রাণ, যা অনেকটা তাজা গোলাপের সুবাসের মতো। দেখতেও এটি ভীষণ সুন্দর। এই আমের গায়ে হলুদ, সবুজ আর লালের এক অদ্ভুত ও চমৎকার মিশ্রণ থাকে। আমটি পুরোপুরি পাকলে এর নিচের দিকে এক আকর্ষণীয় লালচে বা সিঁদুরে আভা ফুটে ওঠে। নবাবী আমলের এই গোলাপখাস আম পাকাতেও যেমন মিষ্টি, কাঁচাতেও তেমনি সুস্বাদু।

চোষা আম ঐতিহাসিক উপাখ্যান বলে, ষোড়শ শতকে ভারতবর্ষের শাসক স্বয়ং শের শাহ সুরি এই আমের নামকরণ করেছিলেন। এই আম চেনার সবচেয়ে সহজতম উপায় হলো এর গায়ের উজ্জ্বল সোনালি হলুদ রং। আকারে এটি অন্যান্য সাধারণ আমের তুলনায় একটু বেশি লম্বাটে ধরনের হয়ে থাকে। এটি অত্যন্ত রসালো হওয়ায় চুষে খাওয়ার জন্য সেরা, তাই এর নাম চোষা।

জান্নাত/সকালবেলা


মন্তব্য করুন