সুবিধার অভাবে খালি পড়ে আছে পূর্বাচল বাস ডিপো, মহাখালীতে সড়কেই পার্কিং

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১০:২১ পূর্বাহ্ণ
সুবিধার অভাবে খালি পড়ে আছে পূর্বাচল বাস ডিপো, মহাখালীতে সড়কেই পার্কিং

অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মহাখালী বাস টার্মিনালের ভয়াবহ যানজট দূর করার উদ্দেশ্যে পূর্বাচলে চালু করা অস্থায়ী বাস ডিপোটি এখন পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত সুফল আনতে পারেনি। বর্ণাঢ্য উদ্বোধনের প্রায় দুই সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধার অভাবে বাস চালক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা ডিপো ব্যবহারে অনীহা প্রকাশ করছেন। ফলে মহাখালী এলাকায় আগের মতোই সড়কের ওপর বাস পার্কিং করায় নগরবাসীর যানজট ভোগান্তি অব্যাহত রয়েছে।

ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ ও রাজউকের যৌথ ভাবনায় গত ১৬ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্বাচলের ৩ নম্বর সেক্টরে এই অস্থায়ী বাস ডিপোটির উদ্বোধন করা হয়। মূল পরিকল্পনা ছিল—দূরপাল্লার বাসগুলো গন্তব্যে রওনা হওয়ার নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা আগে পূর্বাচলের ডিপোতে অবস্থান করবে এবং সময় অনুযায়ী ক্রমান্বয়ে মহাখালী টার্মিনালে এসে যাত্রী তুলে ঢাকা ছাড়বে। এতে মহাখালী মূল সড়কে বাসের দীর্ঘ জটলা ও অবৈধ পার্কিং বন্ধ হওয়ার কথা ছিল।

তবে সরেজমিনে পূর্বাচলের অস্থায়ী ডিপো ঘুরে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। বিশালাকার এই ডিপোতে শতাধিক বাস পার্কিংয়ের পর্যাপ্ত জায়গা থাকলেও সেখানে ঝুলছে মাত্র ২০ থেকে ২৫টি বাসের দেখা। বিলাশ, আহনাল, ইকবাল, সাভার, দিশারী, গ্রিন বাংলা, হাজী ট্রাভেল ও হানিফ পরিবহনের অল্প কিছু বাস ডিপোতে রাখলেও অধিকাংশ পরিবহন আগের মতোই মহাখালীর আশেপাশের সড়কে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখছে।

পরিবহন শ্রমিক ও চালকদের মূল অভিযোগ—ডিপোটিতে বাস রাখার মতো সাময়িক জায়গা করা হলেও মানবসেবার ন্যূনতম কোনো অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়নি। আশপাশে কোনো খাবারের রেস্তোরাঁ বা মানসম্মত টয়লেটের ব্যবস্থা নেই। পিংকি ও বিলাশ পরিবহনের চালকরা জানান, একাধিক দিন ডিপোতে অবস্থান করতে গিয়ে খাবার ও টয়লেট সুবিধার জন্য কয়েক কিলোমিটার দূরে ছুটতে হচ্ছে। তা ছাড়া, থাকার জন্য ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁবু ও ফ্যানের ব্যবস্থা করা হলেও কাঁচা মেঝে ও ধুলাবালির কারণে অতিরিক্ত গরমে দুর্ভোগ চূড়ান্ত রূপ নেয়।

পরিস্থিতির বিষয়ে রাজউকের আনসার কর্মকর্তা ও মাঠ উন্নয়নের দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলীরা জানান, বর্তমানে ১৫০ ফুট বাই ৬০০ ফুট এলাকা দ্রুত বাস রাখার উপযোগী করা হচ্ছে এবং আগামী ১০-১৫ দিনের মধ্যে স্থায়ী শেড, ওয়েটিং রুম, ওয়াশরুম ও আধুনিক সুবিধা সম্বলিত ক্যানটিন তৈরির কাজ শুরু হবে। দ্রুততম সময়ে দুটি রেস্তোরাঁ চালুর প্রস্তুতিও চলছে।

ঢাকা জেলা বাস-মিনিবাস সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সহসভাপতি ইউসুফ মির্জা আশাবাদ ব্যক্ত করে জানান, বৃষ্টিজনিত সমস্যা না হলে আগামী ১৫ আগস্টের মধ্যে ডিপোটি পুরোপুরি ব্যবহার উপযোগী হবে এবং প্রয়োজনীয় গ্যারেজ ও খাবারের সুবিধাও নিশ্চিত করা হবে। ওই সময়সীমার পর মহাখালীর যানজট নিরসনে চালকরা ব্যাপকভাবে পূর্বাচল ডিপো ব্যবহার শুরু করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন