দাবানলে পুড়ছে ইউরোপ, গ্রিসে ৩ দমকলকর্মীর প্রাণহানি

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৪ অপরাহ্ণ
দাবানলে পুড়ছে ইউরোপ, গ্রিসে ৩ দমকলকর্মীর প্রাণহানি
ইউরোপের বিভিন্ন বনাঞ্চলে অনিয়ন্ত্রিত দাবানল নেভানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা

অনলাইন ডেস্ক: চরম উষ্ণ আবহাওয়া, পানির ঘাটতি ও গতিশীল ঝোড়ো বাতাসের মিশেলে গোটা ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে স্মরণকালের অন্যতম বিধ্বংসী দাবানল পরিস্থিতি। বুধবার (২৯ জুলাই) গ্রিসের ক্রিট দ্বীপ এবং দেশের মূল ভূখণ্ডে ছড়ানো আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত তিনজন ফায়ার সার্ভিস কর্মী।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স সূত্রে জানা যায়, ক্রিট দ্বীপের ‘ক্রিয়া ভ্রিসি’ গ্রামের কাছে অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর একটি গাড়ি দুটি বৃহৎ আগুনের শিখার মাঝখানে আটকা পড়লে ভেতরে থাকা দুই দমকলকর্মী জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মারা যান। অন্যদিকে দেশের পেলোপনেস অঞ্চলে আলাদা একটি বনাঞ্চলের আগুন দমনে কাজ করার সময় মারা যান অপর আরেক কর্মী।

প্রবল বাতাস ও অস্বাভাবিক শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে পর্যটন কেন্দ্রগুলোর আশেপাশের লোকালয়ে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় ইতোমধ্যে ক্রিয়া ভ্রিসি ও সংলগ্ন বেশ কয়েকটি জনপদ থেকে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের সম্পূর্ণ নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে প্রশাসন। স্থানীয়রা জানান, বাতাসের বেগ এত তীব্র ছিল যে আগুনের সুউচ্চ শিখা কয়েক কিলোমিটার দূর পর্যন্ত নিমেষেই ছড়িয়ে পড়ছিল।

দাবানল ছড়িয়ে পড়ার ফলে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর আগিয়া গালিনির পাহাড় ঘেঁষা হোটেল ও রিসোর্টগুলো থেকে বাস এবং ব্যক্তিগত গাড়িতে করে শত শত পর্যটককে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয়।

গ্রিসের এই মর্মান্তিক সংবাদের মধ্যেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) জরুরি সাড়াদান কেন্দ্র থেকে বলা হয়েছে—জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্ব গড়ের চেয়ে দ্বিগুণ দ্রুত উত্তপ্ত হওয়া ইউরোপে আগামী কয়েক সপ্তাহে পরিস্থিতি আরও বেশি ঘোলাটে হতে পারে। ইতালির পাশাপাশি গ্রিসের বেশ কয়েকটি অংশে নতুন করে ঝুঁকি বাড়ার শঙ্কা রয়েছে।

এর আগে দীর্ঘ দিন ধরে জ্বলতে থাকা স্পেন ও ফ্রান্সের দাবানল নিয়ে এখনো আতঙ্ক কাটেনি। ফ্রান্সে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার মানুষকে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছিল। কেবল দেশটির লঁদ এলাকাতেই পাইন বনে ভরা ৪২ হাজার হেক্টরের বেশি বনভূমি সম্পূর্ণ ছাই হয়ে গেছে। সেখানে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা বিমান ও ট্রাকের সাহায্যে জলকামান ছিটিয়ে লড়াই অব্যাহত রেখেছেন। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানাচ্ছে, বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা কিছুটা কমলে কিংবা বৃষ্টির দেখা মিললে হয়তো ঝুঁকি সামান্য কমতে পারে।

অপরদিকে স্পেনের বিভিন্ন অঞ্চলে এখনও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সতর্কতা বহাল রাখা হয়েছে। স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা নাগরিকদের সতর্ক করে জানিয়েছেন, পরবর্তী ৩ দিন তাদের তীব্র তাপমাত্রা ও শুষ্ক আবহাওয়ার মতো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। স্পেনের জামোরা প্রদেশে ছড়িয়ে পড়া নতুন দাবানলের কারণে আরও ৬টি শহরের বাসিন্দাদের জরুরি ভিত্তিতে এলাকা ছাড়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরিসংখ্যান বলছে, এই দাবানলে শুধু শত শত কোটি টাকার ঘরবাড়ি, হোটেল কিংবা প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংস হয়নি, বরং বিপন্ন হয়েছে বিরল বন্যপ্রাণী ও বাস্তুসংস্থান। বন উজাড় হয়ে ছাই হয়ে যাওয়া এলাকায় অসংখ্য হরিণ ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর দগ্ধ দেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে, যা বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক হুমকির এক স্পষ্ট ও বীভৎস চিত্র তুলে ধরেছে।

মন্তব্য করুন