হুতি হামলা রুখতে লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক জোট গড়ছে সৌদি আরব

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১১:১৮ পূর্বাহ্ণ
হুতি হামলা রুখতে লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক জোট গড়ছে সৌদি আরব

অনলাইন ডেস্ক: বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত সমুদ্রপথ লোহিত সাগরে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের একের পর এক রকেট ও ড্রোন হামলা প্রতিরোধে এবং আন্তর্জাতিক পণ্যবাহী জাহাজের নির্বিঘ্ন যাতায়াত বজায় রাখতে একটি নতুন বহুজাতিক জোট গঠনের প্রক্রিয়াজাতকরণ শুরু করেছে সৌদি আরব।

প্রক্রিয়ার গতিপ্রকৃতি ও উচ্চপর্যায়ের আলোচনা সম্পর্কে ধারণা রাখেন—এমন দুটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে বুধবার এই তথ্য সামনে এসেছে।

সূত্রগুলোর তথ্যমতে, সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে আয়োজিত এই সম্ভাব্য প্রতিরক্ষামূলক জোটে বিশ্বের ঠিক কোন কোন দেশ বা পরাশক্তি সরাসরি অংশ নেবে, তা এখনো চূড়ান্ত রূপ নেয়নি। তবে কৌশলগত সমুদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইতোমধ্যে পৃথিবীর প্রায় ডজনখানেক দেশের সঙ্গে রিয়াদের কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে। আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা জোরদার ও জ্বালানিবাহী ট্যাংকার প্রবাহ স্বাভাবিক রাখাই মূলত এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

উল্লেখ্য, গত ২০ জুলাই ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী প্রকাশ্য অভিযোগ তুলে দাবি করে যে, সৌদি আরব তাদের ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক ও সামরিক অবরোধ জারি করেছে। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে লোহিত সাগরের সীমানায় সৌদি মালিকানাধীন ও দেশটির স্বার্থসংশ্লিষ্ট সামরিক বা বাণিজ্যিক জাহাজে পূর্ণাঙ্গ ‘নৌ অবরোধ’ বলবৎ করার চরম ঘোষণা দেয় হুতিরা।

যদিও রিয়াদ শুরু থেকেই হুতিদের অবরোধসংক্রান্ত অভিযোগটি সম্পূর্ণ অসত্য বলে প্রত্যাখ্যান করেছে, তবুও এর পর থেকে কৌশলগত এ নৌপথে সংঘাত চরম রূপ নেয়। হুতিরা দাবি করে যে, তারা সমুদ্রসীমায় সৌদি আরবের একাধিক সামরিক ও পণ্যবাহী জাহাজে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।

এর প্রতুত্তরে সৌদি সামরিক বাহিনী ইয়েমেনের উপকূলে অবস্থিত হোদেইদা বন্দরে হুতিদের বিভিন্ন ঘাঁটি ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা পরিচালনা করে। সৌদি কতৃপক্ষের দাবি, হুতিরা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালাতে যেসব লঞ্চপ্যাড ও র্যা ডার স্টেশন ব্যবহার করছিল, তা ধ্বংস করতেই এই সামরিক মিশন চালানো হয়েছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, লোহিত সাগরে নতুন করে তৈরি হওয়া এই সামরিক সংকট মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বিদ্যমান সংঘাতকে আরও বেশি জটিল ও বিপজ্জনক করে তুলছে। এর ফলে কেবল সৌদি আরবই নয়, বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার বৈশ্বিক মিত্রদের ওপরও নতুন কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা তৈরি হয়েছে।

সংকটের প্রভাবে ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ফের বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। এই সার্বিক অনিশ্চয়তা ও সংকট মোকাবিলায় সৌদি আরব আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ত্বরান্বিত করার নীতি গ্রহণ করলেও, এই জোট কবে নাগাদ গঠিত হবে কিংবা কারা সরাসরি সেনা পাঠাবে—সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও রিয়াদের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

মন্তব্য করুন