মাদারীপুরে ৪০১ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক

প্রকাশ: বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০২:৪৩ অপরাহ্ণ
মাদারীপুরে ৪০১ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক

নাজমুল হাসান, মাদারীপুর: মাদারীপুরের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চরম প্রধান শিক্ষক সংকট চলছে। জেলার পাঁচ উপজেলার ৭২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪০১টিতেই নেই নিয়মিত প্রধান শিক্ষক। ফলে এসব বিদ্যালয়ে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। একই সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও প্রশাসনিক কাজ চালাতে গিয়ে তাঁদের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের শিখন কার্যক্রমে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার ১১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৯২টিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। এ ছাড়া কালকিনির ৮০টির মধ্যে ৬৮টি, রাজৈরের ৭২টির মধ্যে ৬৬টি, শিবচরের ১০৪টির মধ্যে ৭৮টি এবং ডাসারের ৩৩টির মধ্যে ১৯টি বিদ্যালয়ে নিয়মিত প্রধান শিক্ষক নেই। অর্থাৎ জেলার অর্ধেকেরও বেশি বিদ্যালয় চলছে অভিভাবকহীনভাবে।

প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মাদারীপুর সদর উপজেলার পৌর অফিসসংলগ্ন মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জীবন নাহার আখি জানান, ২০২৪ সাল থেকে তিনি ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজের চাপে আগের মতো শ্রেণিকক্ষে সময় দেওয়া সম্ভব হয় না।

প্রধান শিক্ষকের পাশাপাশি জেলাজুড়ে সহকারী শিক্ষকের পদও ফাঁকা রয়েছে। অনুমোদিত ৩ হাজার ৭৮২টি সহকারী শিক্ষক পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৩ হাজার ৫৪৭ জন, ফলে ২৩৫টি পদ শূন্য রয়েছে। শিক্ষকস্বল্পতার কারণে একটি ক্লাসের শিক্ষককে একই সময়ে একাধিক শ্রেণি সামলাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাইজা আকতার ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাফি ইসলাম। অভিভাবক সোহাগ শিকদার ও শাহনাজ বেগম উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, শিক্ষক সংকটে পড়াশোনা ব্যাহত হওয়ায় তাঁদের সন্তানেরা শেখার আগ্রহ হারাচ্ছে।

শিবচরের সন্ন্যাসীরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক ফিরোজ মাহমুদ এবং ডাসারের গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সোবহান খান জানান, একাডেমিক তদারকি, নথিপত্র সংরক্ষণ ও দাপ্তরিক যোগাযোগের কারণে চরম অতিরিক্ত চাপে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে, যা শিক্ষার মান ধরে রাখার ক্ষেত্রে ঘাটতি তৈরি করছে।

কর্মকর্তারা জানান, মামলা, নিয়োগ প্রক্রিয়ার আইনি জটিলতা ও পদোন্নতির ধীরগতির কারণেই মূলত এই সংকট দীর্ঘায়িত হচ্ছে। মাদারীপুর সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ মো. কামাল হোসেন বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষকস্বল্পতার কারণে অপেক্ষাকৃত দুর্বল শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

মাদারীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফজলে এলাহী জানান, শূন্য পদ পূরণের জন্য ইতিমধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং অনুমোদন পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার জানান, জেলার অর্ধেকের বেশি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকার বিষয়ে তিনি অবগত হয়েছেন। শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত এই জনবলসংকট নিরসনের উপায় খতিয়ে দেখা হবে।

এআইএল/সকালবেলা


মন্তব্য করুন