দিনমজুর কন্যা রেশমির ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন কি থমকে যাবে?

প্রকাশ: বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১৬ অপরাহ্ণ
দিনমজুর কন্যা রেশমির ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন কি থমকে যাবে?

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের জালালিয়া গ্রামের দিনমজুর কাওসার আহমেদ ও রুশনা আক্তার দম্পতির কনিষ্ঠ কন্যা রেশমি আক্তার সুমাইয়া। চলতি বছর কমলগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে সে। পুরো বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া মাত্র দুজন শিক্ষার্থীর একজন রেশমি।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তিন বোনের মধ্যে রেশমি সবার ছোট। চরম অর্থনৈতিক অনটনের কারণে বড় বোন ডিগ্রি শিক্ষার্থী উর্মি আক্তার পিনকি এবং মেজো বোন একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রমি আক্তারের পড়াশোনা প্রায় এক বছর আগেই বন্ধ হয়ে গেছে।

রেশমির তীব্র মেধা ও অদম্য আগ্রহ দেখে দিনমজুর বাবা অনেক সময় না খেয়ে থেকেও তার স্কুলের বেতন ও খরচ জুগিয়েছেন। মা সংসারের কাজের চাপ না দিয়ে তাকে সার্বক্ষণিক পড়ার সুযোগ করে দেন।

রেশমি আক্তার সুমাইয়া জানায়, "প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পড়াশোনা করেছি। আমার পেছনে কমলগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক কৃষ্ণ পদ শীল ও শ্যামল কুমার সিংহ স্যারের বড় অবদান রয়েছে; তাঁরা বিনামূল্যে পড়িয়েছেন ও বই কিনে দিয়েছেন। বাবার কষ্ট দেখে ছোটবেলা থেকেই মানুষের সেবা করার ইচ্ছা জেগেছে, তাই ডাক্তার হতে চাই। কিন্তু এই মুহূর্তে ভালো কোনো কলেজে ভর্তি হওয়ার টাকা পরিবারের নেই।"

মেয়ের সাফল্য ও ভবিষ্যৎ নিয়ে রেশমির বাবা কাওসার আহমেদ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "দিন আনি দিন খাই, সামান্য ভিটামাটি ছাড়া কিছুই নেই। অভাবের কারণে দুই মেয়ের পড়াশোনা বন্ধ করেছি। রেশমির কলেজে ভর্তি ও বই-খাতা কেনার টাকা কীভাবে জোগাড় করব তা নিয়ে চিন্তায় আছি। কোনো হৃদয়বান ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি সহায়তার হাত বাড়াতেন, তবে মেয়েটার স্বপ্ন বেঁচে যেত।"

কমলগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল মোমিন বলেন, "রেশমি অত্যন্ত মেধাবী ও অধ্যবসায়ী। দারিদ্র্যের মধ্যেও সে যে ফলাফল করেছে তা আমাদের বিদ্যালয়ের গৌরব। উপযুক্ত পৃষ্ঠপোষকতা ও অর্থনৈতিক সহায়তা পেলে রেশমি তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে।"

অর্থাভাবে বড় দুই বোনের পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার পর এখন রেশমির কলেজে ভর্তি ও ভবিষ্যৎ শিক্ষা জীবন নিয়ে অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে পরিবারটির। রেশমির ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে কি না, সেই চিন্তাই এখন তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে সবাইকে।

এআইএল/সকালবেলা


মন্তব্য করুন