মার্কিন পারমাণবিক সুরক্ষাবলয় দুর্বল হওয়ার শঙ্কায় বিশ্বে বাড়ল ঝুঁকি

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬, ০৩:২১ অপরাহ্ণ
মার্কিন পারমাণবিক সুরক্ষাবলয় দুর্বল হওয়ার শঙ্কায় বিশ্বে বাড়ল ঝুঁকি
যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বব্যাপী সামরিক ও পারমাণবিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থার প্রতিকৃতি।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের বহুল পরিচিত পারমাণবিক সুরক্ষাবলয় (নিউক্লিয়ার আমব্রেলা) ক্রমশ ক্ষয়িষ্ণু ও দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের ঝুঁকি নতুন করে মারাত্মক আকার ধারণ করছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসির এক বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা গবেষকদের বরাতে এই গভীর উদ্বেগের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিন ধরে দেওয়া সামরিক ও পারমাণবিক প্রতিবন্ধকতার নিশ্চয়তা নিয়ে মিত্র দেশগুলোর মধ্যে অবিশ্বাস দানা বাঁধছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতিকে দূরবর্তী ও অনিশ্চিত মনে করায় অনেক রাষ্ট্রই এখন নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও প্রতিরক্ষা কৌশল পুনর্মূল্যায়ন করতে বাধ্য হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একে কেন্দ্র করে একক নির্ভরতা কমিয়ে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন গড়ে তোলার ঝোঁক বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান মেয়াদে প্রকাশিত '২০২৬ মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল'-এ ইউরোপীয় ও এশীয় মিত্র দেশগুলোর জন্য স্পষ্ট কোনো পারমাণবিক সুরক্ষার নিশ্চয়তা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এর পাশাপাশি, মিত্রদের নিজস্ব সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে অব্যাহত চাপের ফলে দীর্ঘদিনের মার্কিন নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর সংশয়।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় গত বছরের মার্চেই ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ইউরোপের নিরাপত্তার খাতিরে ফ্রান্সের নিজস্ব পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা শুরুর উদ্যোগ গ্রহণ করেন। জার্মানি, পোল্যান্ড, লিথুয়ানিয়া ও ডেনমার্কের মতো দেশগুলো এই বিকল্প পারমাণবিক সুরক্ষাবলয় গড়ে তোলার বিষয়ে আগ্রহ ব্যক্ত করেছে। এর আগে বাইডেন প্রশাসনের মেয়াদের শেষদিকে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণ পরিবর্তনের পর থেকেই ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের পৃথক পারমাণবিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করে।

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিপ্রি) ২০২৬ সালের সর্বশেষ পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, বিশ্বে বর্তমানে প্রায় নয় হাজার পারমাণবিক ওয়ারহেড মজুত রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় চার হাজার ওয়ারহেড সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক বিমানে মোতায়েন করা অবস্থায় রয়েছে এবং দুই হাজার দুই শর মতো কৌশলগত ওয়ারহেড সার্বক্ষণিক সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে।

বৈশ্বিক এই অস্থিরতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) গুরুত্ব হ্রাস পাওয়া নিয়ে সতর্ক করেছেন। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে পরমাণু অস্ত্রহীন অনেক দেশ নিজেদের সুরক্ষার স্বার্থে অদূর ভবিষ্যতে পরমাণু প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকতে পারে।

মন্তব্য করুন