গোলাপি পদ্মে সেজেছে সিঙ্গার বিল, দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়

প্রকাশ: বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪০ অপরাহ্ণ
গোলাপি পদ্মে সেজেছে সিঙ্গার বিল, দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়

নূর আহাম্মদ পলাশ, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: বর্ষা এলেই বদলে যায় কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার গুজাদিয়া ইউনিয়নের সিঙ্গার বিলের চিত্র। বিস্তীর্ণ জলাভূমিজুড়ে ফুটে থাকা অসংখ্য গোলাপি পদ্মে পুরো এলাকা যেন রূপ নেয় অপরূপ এক পদ্মরাজ্যে। প্রকৃতির এই নয়নাভিরাম সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী।

স্থানীয়দের কাছে ঐতিহ্যবাহী সিঙ্গার বিলটি এখন ‘পদ্মবিল’ নামেই অধিক পরিচিত। বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে এখানে দর্শনার্থীদের সমাগম কয়েক গুণ বেড়ে যায়। ছোট ছোট ডিঙি নৌকায় চড়ে বিলের ভেতরে ঘুরে পদ্মের নৈসর্গিক রূপ উপভোগ করছেন পরিবার, বন্ধু-বান্ধব ও বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকেই অপরূপ এই পদ্মের সঙ্গে ছবি ও সেলফি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্মৃতি ধরে রাখছেন।

করিমগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সোনালী ও নেহা জানায়, ছুটির দিনে বান্ধবী ও পরিবারের সঙ্গে এসে চারপাশের এমন প্রাকৃতিক পরিবেশ দেখে মন আনন্দে ভরে গেছে।

তবে বিলে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের একটি বড় ক্ষোভের জায়গা নৌকার ভাড়া। তাদের অভিযোগ, সাধারণ দিনে ১০ থেকে ২০ মিনিট ঘুরিয়ে ১০০ থেকে ২০০ টাকা নেওয়া হলেও ছুটির দিনে দর্শনার্থীদের অতিরিক্ত চাপের সুযোগ নিয়ে মাঝিরা ৫০০ টাকা পর্যন্ত দাবি করে বসেন। পাশাপাশি যোগাযোগের পথটি সুগম না হওয়ায় মূল সড়ক থেকে বিলের পাড় পর্যন্ত হাঁটুপানি পেরিয়ে যেতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয় পর্যটকদের।

এ বিষয়ে পূর্বচর কংশি এলাকার বাসিন্দা রফিক মিয়া জানান, রাস্তা ভালো না থাকায় অনেক দর্শনার্থী মাঝপথ থেকেই ফিরে যাচ্ছেন। বিলের পাড় পর্যন্ত একটি টেকসই সড়ক নির্মাণ করা গেলে এখানে পর্যটন সম্ভাবনার দুয়ার খুলবে এবং স্থানীয়দের বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরি হবে।

তাড়াইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিলা আক্তার জানান, পদ্মবিলের একাংশ তাড়াইল এবং অন্য অংশ করিমগঞ্জ উপজেলার অন্তর্ভুক্ত। পাকা সড়ক থেকে বিলের পাড় পর্যন্ত যাতায়াতের রাস্তাটি তাড়াইলের আওতাধীন হওয়ায় দ্রুত সড়ক নির্মাণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তা ছাড়া অতিরিক্ত নৌকা ভাড়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন, সঠিক পরিকল্পনা, নিরাপত্তা জোরদার এবং সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণ করা গেলে সিঙ্গার বিলটি দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।

এআইএল/সকালবেলা


মন্তব্য করুন