কলকাতায় আগুনে ৯ জনের মৃত্যু: ক্ষতিগ্রস্ত হোটেল বন্ধের নির্দেশ, ১৬ বরোতে তদন্ত কমিটি

প্রকাশ: বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১১ অপরাহ্ণ
কলকাতায় আগুনে ৯ জনের মৃত্যু: ক্ষতিগ্রস্ত হোটেল বন্ধের নির্দেশ, ১৬ বরোতে তদন্ত কমিটি
কলকাতার হোটেলে ৯ জনের করুণ মৃত্যুর পর নগরজুড়ে বাণিজ্যিক ভবনগুলোর সুরক্ষা ব্যবস্থার ওপর কড়াকড়ি আরোপ।

ভারতের কলকাতার ঐতিহ্যবাহী নিউ মার্কেট এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ জন প্রাণ হারানোর পর নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় নগর প্রশাসন। অগ্নিকাণ্ডে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হোটেলটিকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে। একই সঙ্গে পুরো শহরের বাণিজ্যিক ভবন ও হোটেলগুলোর অগ্নিনির্বাপণ নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে ১৬টি বরোতেই পৃথক তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

পুরসভার কঠোর পদক্ষপ ও তদারকি:

কলকাতা পুরসভা সূত্র জানিয়েছে, আগামী ২৫ আগস্ট থেকে শহরের ১৬টি বরোর অধীনে থাকা সব মার্কেট, হোটেল, বাণিজ্যিক আবাসন এবং জনসমাগমস্থলে অগ্নিনির্বাপণ ও সামগ্রিক সুরক্ষা ব্যবস্থা পরিদর্শনের কাজ শুরু করবে এই বিশেষ দলগুলো। এক মাসের মধ্যে কমিটিকে তাদের প্রাথমিক অনুসন্ধান প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আইনি বৈধতা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তদন্ত কমিটিতে কলকাতা পুরসভার (KMC) লাইসেন্স বিভাগের পাশাপাশি কেএমডিএ, কলকাতা পুলিশ, রাজ্য দমকল বিভাগ এবং বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সিইএসসি-র (CESC) প্রতিনিধিদের যুক্ত করা হয়েছে।

প্রশাসনিক গাফিলতি স্বীকার ও বার্তা:

ঘটনার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পুরসভার নজরদারিতে গাফিলতি থাকার বিষয়টি নির্দ্বিধায় স্বীকার করেন পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে। তিনি জানান, কোন কোন প্রক্রিয়ায় ভুলত্রুটি ছিল তা চিহ্নিত করতে বিল্ডিং বিভাগের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য তলব করা হয়েছে।

প্রশাসনিক তদন্তের পাশাপাশি হোটেল মালিকদের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, "কেবল প্রশাসনের ওপর দায় না চাপিয়ে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে ন্যূনতম সুরক্ষা বিধি মেনে চলার দায়িত্ব ব্যবসায়ীদেরও নিতে হবে।"

রাজনৈতিক বিতর্ক ও সমালোচনা:

এদিকে নিউ মার্কেটের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করে পূর্ববর্তী রাজ্য সরকারের নীতি ও নগরায়ন ব্যবস্থার কড়া সমালোচনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

তিনি অভিযোগ করেন, "কয়েক দশক ধরে কলকাতায় অপরিকল্পিত অবকাঠামো গড়ে তোলার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। উপযুক্ত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ও ন্যূনতম নিরাপত্তা বিধি অমান্য করেই বহুতল ভবনগুলোতে অবাধে হোটেল ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, যার পরিণতি এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

মন্তব্য করুন