কেয়ামতের আগে দাজ্জালের আবির্ভাব ও পরবর্তী ঘটনাবলি
কেয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে যে প্রধান ১০টি বড় আলামত প্রকাশ পাবে, তার মধ্যে অন্যতম হলো দাজ্জালের আবির্ভাব। সম্প্রতি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত একটি দীর্ঘ হাদিসের মাধ্যমে এই ভয়ংকর সময় এবং পরবর্তী ধ্বংসলীলা ও পুনরুত্থানের বর্ণনা উঠে এসেছে।
হাদিস অনুযায়ী, দাজ্জাল পৃথিবীতে এসে ৪০ (দিন/মাস/বছর) অবস্থান করবে। এরপর মহান আল্লাহর নির্দেশে হযরত ঈসা (আ.) পৃথিবীতে অবতরণ করবেন এবং দাজ্জালকে খুঁজে বের করে হত্যা করবেন। দাজ্জালের বিনাশের পর পৃথিবীতে নেমে আসবে শান্তি। টানা সাত বছর মানুষ এমন ভ্রাতৃত্বের সাথে বসবাস করবে যে, কারো মধ্যে কোনো শত্রুতা থাকবে না।সুখময় এই সময়ের পর সিরিয়ার দিক থেকে একটি অতি শীতল ও নির্মল বাতাস প্রবাহিত হবে। এই বাতাসের স্পর্শে পৃথিবীর প্রতিটি মুমিন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটবে। এমনকি কেউ যদি পাহাড়ের গুহায় আত্মগোপন করে থাকে, সেখানেও এই বাতাস পৌঁছে যাবে। ফলে পৃথিবীতে কেবল পাপাচারী ও খারাপ মানুষেরা অবশিষ্ট থাকবে। তাদের স্বভাব হবে হিংস্র পশুর মতো এবং তারা ভালো-মন্দের পার্থক্য ভুলে মূর্তিপূজায় লিপ্ত হবে।
এই পাপাচারী লোকদের বিলাসী জীবনের মধ্যেই হঠাৎ হযরত ইসরাফিল (আ.) শিঙায় ফুঁক দেবেন। এই প্রলয়ঙ্কারী শব্দ শোনামাত্রই জগতের সব প্রাণী মৃত্যুবেষ্টনীতে ঢলে পড়বে। এরপর আল্লাহ তাআলা বৃষ্টির মতো এক বিশেষ বারিবর্ষণ করবেন, যার ফলে মানুষের মৃত শরীরগুলো পুনরায় জীবিত হওয়ার উপযোগী হবে। দ্বিতীয়বার শিঙায় ফুঁক দেওয়ার সাথে সাথেই সব মানুষ পুনরুত্থিত হয়ে দাঁড়িয়ে চারদিকে তাকাতে থাকবে।পুনরুত্থানের পর সবাইকে মহান আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে। তবে হিসাবের আগে সবাইকে থামিয়ে দেওয়া হবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। হাদিসের বর্ণনায় এটি হবে অত্যন্ত সংকটময় একটি দিন। জাহান্নামের দল পৃথক করার সময় দেখা যাবে, প্রতি হাজারে ৯৯৯ জনই জাহান্নামি হবে। বিচারের ভয়াবহতা ও দুশ্চিন্তায় সেদিন একজন কিশোরও বৃদ্ধে রূপান্তরিত হয়ে যাবে। (সহিহ মুসলিম ও মুসনাদে আহমদ)
জান্নাত/সকালবেলা
|