ডায়রিয়ার প্রকোপে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে রোগী দ্বিগুণ

প্রকাশ: শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩৬ অপরাহ্ণ
ডায়রিয়ার প্রকোপে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে রোগী দ্বিগুণ

নাজমুল হাসান, মাদারীপুর: আবহাওয়া পরিবর্তন ও সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের কারণে মাদারীপুর জেলাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ডায়রিয়া ও ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ। এতে জেলা সদর হাসপাতালের ২৫ শয্যাবিশিষ্ট ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। শয্যাসংকটের কারণে হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দার খালি জায়গায় গাদাগাদি করে সেবা নিতে বাধ্য হচ্ছেন রোগীরা।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে মাদারীপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল পরিদর্শনে দেখা যায়, ডায়রিয়ার পাশাপাশি জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়াসহ নানা ঋতুভিত্তিক রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রচুর মানুষ হাসপাতালে আসছেন। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বয়স্কদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। এছাড়া বহির্বিভাগে চর্মরোগে আক্রান্ত রোগীদের আনাগোনাও লক্ষ্য করা গেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন গড়ে আন্তঃবিভাগ ও বহির্বিভাগ মিলিয়ে প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে আসছেন। তবে পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় রোগীদের সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালে অনুমোদিত ১৬৪ জন জনবলের বিপরীতে বর্তমানে চিকিৎসক ও নার্সসহ মোট ১৩৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে এই বিশালসংখ্যক রোগীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

চিকিৎসাধীন রোগীদের স্বজনরা জানান, হঠাৎ করেই রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় তাঁরা দ্রুত হাসপাতালে ছুটে এসেছেন। কালকিনি উপজেলার কালিগঞ্জ থেকে আসা শিশু রোগী নাভানা আহম্মেদের মা রাবিয়া বেগম জানান, "আমার ছেলে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। ঘন ঘন পাতলা পায়খানার পাশাপাশি বমি ও পেট ব্যথা শুরু হলে আর দেরি না করে হাসপাতালে আসি। এখন ও চিকিৎসাধীন আছে।"

একই ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা শিক্ষার্থী লামিয়া আক্তার জানান, "সকালে ভাত খাওয়ার পরপরই হঠাৎ বমি ও পাতলা পায়খানা শুরু হয়। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে উপায় না দেখে হাসপাতালে এসে ভর্তি হতে হয়।"

পরিস্থিতি ও রোগীদের সেবার বিষয়ে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. অখিল সরকার জানান, আবহাওয়া পরিবর্তন ও বৃষ্টির প্রভাবের কারণে ডায়রিয়া ও ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বেশ কিছুটা বেড়েছে। তবে রোগী বাড়লেও হাসপাতালের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। তিনি সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে উপসর্গ দেখা দিলেই নিকটস্থ হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার অনুরোধ জানান।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন