শাহজাদপুরে খালে প্রাণের স্রোত, কাজ শেষে ২০ লাখ টাকা ফেরত

প্রকাশ: শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১১ অপরাহ্ণ
শাহজাদপুরে খালে প্রাণের স্রোত, কাজ শেষে ২০ লাখ টাকা ফেরত

মো. আব্দুল কুদ্দুস, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি এবং স্থানীয় প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এমপির সার্বিক দিকনির্দেশনায় শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরিনা শারমিনের তত্ত্বাবধানে উপজেলার একটি দীর্ঘদিনের অবহেলিত খাল পুনঃখনন সম্পন্ন হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস কর্তৃক বাস্তবায়িত গাড়াদহ ইউনিয়নের মশিপুর বাজার সংলগ্ন ছোট ব্রিজ হতে লালপুর পর্যন্ত খালটি পুনঃখনন করা হয়। এই খাল খনন করতে গিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে সরকারের বিপুল পরিমাণ খাসজমি। উচ্ছেদ করা হয়েছে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ১০টি বাড়ি এবং একটি দোতলা মার্কেট।

পুনঃখননের পর খালটি করতোয়া নদীর সাথে পুনরায় সংযুক্ত হওয়ায় মরা খালে ফিরে এসেছে প্রাণের স্রোত। শুধু তা-ই নয়, নির্ধারিত বাজেটের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে শতভাগ কাজ সম্পন্ন করার পরও প্রাক্কলিত ব্যয়ের ২০ লাখ ৫৭ হাজার ৯৪ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়ে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, খাল পুনঃখননের নন-ওয়েজ অংশের অর্থ দিয়ে ৬ ফুট ব্যাসের ১৬টি আরসিসি রিং পাইপ ২টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো হয়েছে। পাশাপাশি খালের দুপারে ৭১৪টি ফলজ ও বনজ বৃক্ষের চারা রোপণ করা হয়েছে।

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা খালে পানি প্রবাহ ফিরে আসায় আনন্দিত স্থানীয় বাসিন্দারা। সরিষাকোল গ্রামের বাসিন্দা মো. রবিউল ইসলাম (৩০) খাল খননে সন্তোষ প্রকাশ করে সরকার প্রধানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। মাকড়কোলা গ্রামের আজিম (১৮) বলেন, "আমার জীবনে এই খালে প্রথমবারের মতো বর্ষার পানি প্রবাহ দেখছি। এর আগে এটি সম্পূর্ণ ভরাট ও বন্ধ অবস্থায় পড়ে ছিল।"

মশিপুর গ্রামের আব্দুল করিম (৩৫) জানান, "প্রায় ২০ বছর আগে এই খালে বর্ষার পানি আসত এবং নৌকা চলত। কিন্তু গত ১৬-১৭ বছর ধরে দখল ও সংস্কারের অভাবে খালটি মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছিল। এখন পুনরায় খনন হওয়ায় এলাকার রূপ বদলে গেছে।"

খাল পুনঃখনন ও অবৈধ দখল মুক্ত করে এলাকাটিকে দৃষ্টিনন্দন করে তোলায় শাহজাদপুরের সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আনন্দ-উল্লাস দেখা গেছে।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন