যশোরে হানি ট্র্যাপ চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার
বিশেষ প্রতিনিধি: ফেসবুকে ল্যাপটপ বিক্রির বিজ্ঞাপন দেখে যশোরে আসা এক তরুণকে ব্ল্যাকমেইলের শিকার করার অভিযোগে 'হানি ট্র্যাপ' চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগীকে জিম্মি করে আপত্তিকর ছবি তুলে মোটরসাইকেল, ল্যাপটপ ও নগদ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার দায়ে তাঁদের আটক করা হয়।
শনিবার (৮ আগস্ট) রাতে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—যশোর শহরের শংকরপুর এলাকার আলোচিত রাজা এবং তাঁর দুই নারী সহযোগী বৃষ্টি ও জারা।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি নড়াইলের কালিয়া এলাকার এক তরুণ ফেসবুকে ল্যাপটপ বিক্রির একটি বিজ্ঞাপন দেন। বিজ্ঞাপন দেখে রাজাসংঘবদ্ধ চক্রটির মূলহোতা রাজা তাঁর সাথে যোগাযোগ করেন এবং ল্যাপটপ কেনার কথা বলে তাঁকে যশোরে আসতে বলেন। ভুক্তভোগী যুবক ল্যাপটপ নিয়ে যশোরে পৌঁছালে রাজাসহ চক্রের সদস্যরা তাঁকে একটি কক্ষে নিয়ে জোরপূর্বক আটকে রাখে।
সেখানে বৃষ্টি ও জারাকে ব্যবহার করে ওই যুবকের বেশ কিছু আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে এসব ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাঁর সঙ্গে থাকা একটি মোটরসাইকেল ও ল্যাপটপ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। একই সাথে পরিবারের সদস্যদের কল করে মুক্তিপণ হিসেবে নগদ টাকা আদায় করে যুবককে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঘটনাটি পরিবারকে জানানোর পর ভুক্তভোগীকে সঙ্গে নিয়ে কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের প্রেক্ষিতে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল আমিনের নেতৃত্বে তদন্ত কাজ শুরু হয়। তদন্তের ধারাবাহিকতায় শনিবার রাতে যশোর জেনারেল হাসপাতাল এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে প্রথমে রাজাকে এবং পরবর্তীতে তাঁর দুই সহযোগী বৃষ্টি ও জারাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল আমিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী যুবক বাদী হয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। গ্রেপ্তারকৃত চক্রটির সাথে অন্য কারো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, এই চক্রটি মূলত নারীদের টোপ হিসেবে ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রলোভনে মানুষকে ফাঁদে ফেলত। পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেইল করে সর্বস্ব লুটে নেওয়া ছিল তাদের মূল কাজ। আটককৃতদের বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মামলা রয়েছে এবং এর আগেও তারা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল।
এআইএল/সকালবেলা
|