পোড়া তেল বর্জনের আহ্বান বিএফএসএ চেয়ারম্যানের

প্রকাশ: সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১৩ অপরাহ্ণ
পোড়া তেল বর্জনের আহ্বান বিএফএসএ চেয়ারম্যানের

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যবহৃত পোড়া তেলের পুনঃব্যবহার মানবদেহে ক্যান্সার ও হৃদরোগসহ মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। দেশে প্রতি বছর ২ লাখ ৭৮ হাজার মানুষের অকাল মৃত্যুর পেছনে দায়ী শিল্পজাত 'ট্রান্স ফ্যাট'। 

সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) ও মুয়েন্জার বাংলা প্রাইভেট লিমিটেড-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক সেমিনারে এসব তথ্য জানানো হয়।

রাজধানীতে কর্তৃপক্ষের প্রশিক্ষণ কক্ষে আয়োজিত এই সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএফএসএ চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো: আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, "সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে হলে পোড়া তেলের ব্যবহার অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। এই তেল পরিবেশ ও মাটির সাথে মিশে গিয়েও দীর্ঘমেয়াদী বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করছে।"

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব। তিনি জানান, বাংলাদেশে প্রতি এক লক্ষ মানুষের মধ্যে ৫৯ জন হৃদরোগে মারা যান, যার ৪ শতাংশ মৃত্যুর সাথে ট্রান্স ফ্যাট সরাসরি জড়িত। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাজার থেকে সংগৃহীত ডালডার ৯৫টি নমুনার মধ্যে ৯৩টি এবং সয়াবিন তেলের ১১টি নমুনার মধ্যে ৭টিতেই অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে বেশি ট্রান্স ফ্যাটি এসিড পাওয়া গেছে।

বিএফএসএ সদস্য ড. মোহাম্মদ মোস্তফা ও আ. ন. ম. নাজিম উদ্দীন জানান, ২০২১ সালে প্রণীত প্রবিধানমালা অনুযায়ী খাবারে ট্রান্স ফ্যাটের সর্বোচ্চ মাত্রা ২% নির্ধারণ করা হয়েছে। গত রমজানে ৭২০টি মনিটরিং কার্যক্রমের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের পোড়া তেলের অপকারিতা সম্পর্কে সচেতন করা হয়েছে।

সেমিনারে উপস্থিত গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা জানান, রান্নায় একই তেল ২-৩ বারের বেশি ব্যবহার করা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এই পোড়া তেল সরাসরি খাদ্যে ব্যবহার না করে তা সংগ্রহ করে 'বায়োডিজেল' বা পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎপাদনে ব্যবহার করা সম্ভব। এর মাধ্যমে একদিকে জনস্বাস্থ্য রক্ষা হবে, অন্যদিকে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত হবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন মুয়েনজার-এর দক্ষিণ এশিয়ার প্রজেক্ট ম্যানেজার মার্টিন শেস্ট্যাগ, বিএফএসএ উপপরিচালক মো: রুহুল আমিন এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের অ্যাসিস্টেন্ট সায়েন্টিস্ট ড. আহমেদ খায়রুল আবরার।

এ.আই.এল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন