হিট স্ট্রোক নাকি ডিহাইড্রেশন— পার্থক্য বুঝবেন যেভাবে

হিট স্ট্রোক নাকি ডিহাইড্রেশন— পার্থক্য বুঝবেন যেভাবে

অনলাইন ডেস্ক: বৈশাখের তপ্ত রোদে জনজীবন ওষ্ঠাগত। এই তীব্র গরমে স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ দুটি সমস্যা হলো হিট স্ট্রোক এবং ডিহাইড্রেশন। অনেক সময় এই দুটির লক্ষণ কাছাকাছি মনে হলেও, এদের কারণ ও প্রতিকার ভিন্ন। সুস্থ থাকতে এই দুইয়ের পার্থক্য বোঝা জরুরি।

হিট স্ট্রোক ও ডিহাইড্রেশনের মধ্যে মূল পার্থক্য:

বৈশিষ্ট্যডিহাইড্রেশন (পানিশূন্যতা)হিট স্ট্রোক
মূল কারণঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি ও খনিজ বেরিয়ে যাওয়া।শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা হারানো এবং তাপমাত্রা ১০৪° ফারেনহাইটের উপরে উঠে যাওয়া।
শরীরের তাপমাত্রাসাধারণত স্বাভাবিক থাকে।শরীর প্রচণ্ড গরম হয়ে যায় (জ্বর অনুভূত হয়)।
ত্বকের অবস্থাঘাম হয়, ত্বক ফ্যাকাশে ও স্যাঁতসেঁতে হতে পারে।ত্বক লালচে, গরম এবং শুকনো হয়ে যায় (ঘাম বন্ধ হয়ে যেতে পারে)।
মানসিক অবস্থাক্লান্তি ও মাথা ঘোরা।বিভ্রান্তি, অসংলগ্ন কথা বলা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া।
অন্যান্য লক্ষণপ্রবল তৃষ্ণা, মুখ শুকিয়ে যাওয়া, মাথা ব্যথা।দ্রুত হৃদস্পন্দন, শ্বাসকষ্ট, বমি ও খিঁচুনি।

প্রতিকারে যা করবেন:

  • ডিহাইড্রেশন হলে: রোগীকে দ্রুত ছায়াযুক্ত স্থানে নিয়ে প্রচুর পানি, ওআরএস (স্যালাইন) বা ডাবের পানি খাওয়াতে হবে। বিশ্রাম নিলে এবং পর্যাপ্ত তরল পান করলে রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে।

  • হিট স্ট্রোক হলে: এটি একটি মেডিকেল ইমার্জেন্সি। রোগীকে দ্রুত ঠান্ডা জায়গায় নিয়ে গায়ের কাপড় আলগা করে দিতে হবে। শরীরে ঠান্ডা পানি বা বরফ দিয়ে মুছে দিতে হবে এবং সম্ভব হলে ফ্যানের নিচে রাখতে হবে। অবস্থার উন্নতি না হলে কালক্ষেপণ না করে হাসপাতালে নিতে হবে।

সতর্কতা:

প্রখর রোদে বাইরে বেরোলে অবশ্যই ছাতা, সানগ্লাস এবং পানির বোতল সাথে রাখুন। সুতি ও ঢিলেঢালা পোশাক পরুন এবং তৃষ্ণা না পেলেও ঘন ঘন পানি পান করার অভ্যাস করুন।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন