রোবট কুকুরের মাথায় মাস্ক-জাকারবার্গ ও ‘ডিজিটাল বর্জ্য’

রোবট কুকুরের মাথায় মাস্ক-জাকারবার্গ ও ‘ডিজিটাল বর্জ্য’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বার্লিনের ‘নয়ে ন্যাশনাল গ্যালারি’তে এক অদ্ভুত ও বিদ্রূপাত্মক শিল্প প্রদর্শনীর আয়োজন করেছেন বিশ্বখ্যাত ডিজিটাল শিল্পী বিপল (মাইক উইঙ্কেলম্যান)। ‘রেগুলার অ্যানিম্যালস’ নামের এই প্রদর্শনীতে দেখা যাচ্ছে একদল যান্ত্রিক রোবট কুকুর গ্যালারিজুড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে, যাদের মাথায় বসানো হয়েছে ইলন মাস্ক, মার্ক জাকারবার্গ ও জেফ বেজোসের মতো প্রযুক্তি মোগলদের অবয়ব।

যান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি ও ‘ডিজিটাল মলত্যাগ’: এই রোবট কুকুরগুলো কেবল ঘুরে বেড়ায় না, বরং এদের ঘাড়ের ওপর বসানো অত্যাধুনিক ক্যামেরার মাধ্যমে দর্শকদের ছবি তোলে। সেই ছবিগুলোকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) মাধ্যমে প্রসেস করার পর সেগুলো প্রিন্ট করে বের করে দেয়। শিল্পী বিপল এই প্রক্রিয়াকে মজা করে বলছেন ‘পুইং’ বা মলত্যাগ। তার মতে, টেক জায়ান্টদের মস্তিষ্ক দিয়ে পৃথিবীকে দেখার পর যা অবশিষ্ট থাকে, তা স্রেফ ‘ডিজিটাল বর্জ্য’।

অ্যালগরিদমের শাসন ও ক্ষমতার প্রশ্ন: প্রদর্শনীর মাধ্যমে বিপল এক গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন—পৃথিবী দেখার ক্ষমতা কি এখন আর আমাদের হাতে আছে? তিনি বলেন, বর্তমানে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ন্ত্রণ করছে টেক বিলিয়নেয়ারদের তৈরি অ্যালগরিদম। তারা কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের অনুমতি ছাড়াই কোটি কোটি মানুষের চিন্তা ও মনস্তত্ত্ব বদলে দিতে পারেন। জাকারবার্গ বা মাস্কের আদলে তৈরি রোবট কুকুরগুলো মূলত সেই অসীম ক্ষমতার দিকেই ইঙ্গিত করে।

অর্গানিক বিষ্ঠা ও এনএফটি: বিপল তার এই বিদ্রূপকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছেন। রোবট কুকুরের প্রিন্ট করা ছবিগুলোর সঙ্গে তিনি একটি মজার সনদ জুড়ে দিচ্ছেন, যেখানে লেখা থাকে— ‘শতভাগ অর্গানিক ও জিএমও-মুক্ত কুকুরের বিষ্ঠা!’ এছাড়া প্রতিটি প্রিন্টের সঙ্গে থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করে দর্শকরা বিনামূল্যে এনএফটি (NFT) সংগ্রহ করতে পারছেন।

শিল্পের নতুন দর্পণ: বার্লিনের এই প্রদর্শনীর কিউরেটর লিসা বত্তি মনে করেন, মিউজিয়াম হলো সেই জায়গা যেখানে সমাজ ও প্রযুক্তির এই অদ্ভুত পরিবর্তন নিয়ে ভাবার সুযোগ থাকে। বিপলের এই আয়োজন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, আধুনিক বিশ্বে আমাদের আবেগ আর চিন্তাগুলো বড় বড় টেক জায়ান্টদের অ্যালগরিদমের কাছে স্রেফ কিছু ‘ডাটা’ বা তথ্যে পরিণত হয়েছে।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন