পুলিশ পরিদর্শকের বিরুদ্ধে সার্জেন্ট স্ত্রীর অভিযোগ

পুলিশ পরিদর্শকের বিরুদ্ধে সার্জেন্ট স্ত্রীর অভিযোগ

আবু কাওসার মাখন, রাজশাহী ব্যুরো: রাজশাহীতে পুলিশের এক নারী সার্জেন্ট তার স্বামী, যিনি নিজেও একজন পুলিশ কর্মকর্তা, তার বিরুদ্ধে অমানবিক নির্যাতন, প্রতারণা এবং জোরপূর্বক ভ্রূণ হত্যার মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। ভুক্তভোগী নারী সার্জেন্ট মোসাঃ সাবিহা আক্তার বর্তমানে আরএমপি রাজশাহীর ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত। তিনি তার স্বামী নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক মোঃ মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে বিচার চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২০ সালে মাহবুব আলমের সাথে সাবিহার বিবাহ হয়। সাবিহার দাবি, বিবাহের সময় মাহবুব তার পূর্বের বৈবাহিক অবস্থা গোপন করেছিলেন। বিয়ের পর থেকেই মাহবুব সাবিহাকে স্ত্রীর অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখতেন এবং অসংখ্য নারীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত হতেন। প্রতিবাদ করলে সাবিহার ওপর চলতো অকথ্য শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। সাবিহা জানান, তিনি মাহবুবের ল্যাপটপ থেকে এসব চারিত্রিক স্খলনের অসংখ্য প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন।

অভিযোগের সবচেয়ে লোমহর্ষক অংশটি হলো জোরপূর্বক গর্ভপাত। সাবিহা উল্লেখ করেন, ২০২০ সালে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হলে মাহবুবের চাপে তাকে সন্তান নষ্ট করতে বাধ্য করা হয়। রাজি না হওয়ায় অমানুষিক নির্যাতনের একপর্যায়ে ২০২০ সালের ৩০ জুলাই রাজশাহীর লক্ষ্মীপুর এলাকার একটি ক্লিনিকে তার ৪ মাসের ভ্রূণ হত্যা করা হয়। এছাড়া নওগাঁয় কর্মরত থাকাকালীন এক টিকটকারের সাথে মাহবুবের আপত্তিকর ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হলে তার পরকীয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

কেবল শারীরিক নয়, সাবিহা বড় ধরনের আর্থিক প্রতারণারও শিকার হয়েছেন। পারিবারিক সমস্যার কথা বলে মাহবুব সাবিহার ব্যাংকের এফডিআর এবং লোন মিলিয়ে মোট ২০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে তাদের ১৯ মাস বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে, যার কোনো দায়িত্ব মাহবুব পালন করেন না।

রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, "অভিযোগ অনুযায়ী ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যদিও এটি পারিবারিক বিষয় তবুও বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।" অভিযুক্ত মাহবুব আলম বর্তমানে রাজশাহী থেকে সিরাজগঞ্জে বদলির অপেক্ষায় রয়েছেন।

ভুক্তভোগী সাবিহা আক্তার বলেন, "আমি পুলিশের সার্জেন্ট হিসেবে মানুষের সেবা করলেও নিজের ঘরেই বছরের পর বছর নিগৃহীত হয়েছি। মাহবুব আমার জীবন বিষিয়ে তুলেছেন। আমি এই অমানবিক নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচার চাই।"

এ.আই.এল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন