ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
লাইফস্টাইল ডেস্ক: হঠাৎ তীব্র পেটব্যথা, প্রস্রাবে জ্বালা কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া—এই উপসর্গগুলো শরীরে পাথর জমার অন্যতম লক্ষণ হতে পারে। পিত্তথলির পাথরের মতো বৃক্ক বা কিডনি, মূত্রথলি এবং মূত্রনালিতেও খনিজ ও লবণের শক্ত কণা জমে পাথর তৈরি হয়। ছোট অবস্থায় এটি টের পাওয়া না গেলেও আকারে বড় হলে তা অসহ্য যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। চিকিৎসকদের মতে, আমাদের কিছু দৈনন্দিন অভ্যাস ও শারীরিক সীমাবদ্ধতাই এই পাথর তৈরির জন্য দায়ী।
পাথর কেন ও কীভাবে তৈরি হয়? মানুষের প্রস্রাবে স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন খনিজ ও বর্জ্য পদার্থ থাকে। শরীরে পানির অভাব হলে বা প্রস্রাব কম তৈরি হলে এই বর্জ্যগুলোর ঘনত্ব বেড়ে যায়। ফলে খনিজ কণাগুলো একত্রে জমাট বেঁধে স্ফটিক তৈরি করে, যা সময়ের সঙ্গে বড় হয়ে পাথরে পরিণত হয়।
পাথর হওয়ার প্রধান কারণসমূহ:
পর্যাপ্ত পানি পান না করা: কম পানি পান করা মূত্রনালিতে পাথর হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ। শরীরে পানি কম থাকলে প্রস্রাব ঘন হয়ে যায়, ফলে খনিজ পদার্থগুলো সহজে থিতিয়ে পড়ে জমাট বাঁধতে শুরু করে। বিশেষ করে গরম আবহাওয়ায় ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে পানি বেরিয়ে গেলে এই ঝুঁকি আরও বাড়ে।
ত্রুটিপূর্ণ খাদ্যাভ্যাস: অতিরিক্ত লবণ ও প্রাণিজ প্রোটিন (যেমন লাল মাংস) গ্রহণ পাথরের ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়া অক্সালেটসমৃদ্ধ খাবার (যেমন পালংশাক, বাদাম) নির্দিষ্ট কিছু মানুষের ক্ষেত্রে দ্রুত পাথর তৈরি করতে পারে।
বংশগত প্রভাব: পরিবারের কোনো নিকটাত্মীয়ের এই সমস্যা থাকলে অন্যদের মধ্যেও মূত্রনালিতে পাথর হওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
অন্যান্য রোগ: স্থূলতা, ডায়াবেটিস এবং হরমোনজনিত জটিলতা পাথর তৈরির প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। যারা দীর্ঘদিন শারীরিক পরিশ্রম করেন না বা শয্যাশায়ী থাকেন, তাদের ক্ষেত্রেও এই ঝুঁকি প্রবল।
প্রস্রাব চেপে রাখা: দীর্ঘ সময় প্রস্রাব আটকে রাখার অভ্যাস মূত্রনালির স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা দেয়, যা পাথর জমার পথ প্রশস্ত করে। এছাড়া কিছু নির্দিষ্ট ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবেও এটি হতে পারে।
প্রতিরোধের উপায়: বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমস্যা থেকে বাঁচতে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করার বিকল্প নেই। এছাড়া সুষম খাবার গ্রহণ, লবণের পরিমাণ কমানো এবং শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। ছোট ছোট অভ্যাসের পরিবর্তনই পারে এই নীরব ঘাতক থেকে আমাদের মুক্ত রাখতে। তবে লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
জান্নাত/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ