ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
ধর্ম ডেস্ক: মানুষের ঈমানি অবস্থা সবসময় একরকম থাকে না। কখনো আখিরাতের চিন্তায় মন ব্যাকুল থাকে, আবার কখনো পার্থিব ব্যস্ততায় আমরা ডুবে যাই। এই মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা নিয়ে সাহাবি হানজালা ইবনে রাবি আল-উসাইদি (রা.)-এর একটি চমৎকার হাদিস বর্ণিত হয়েছে।
হাদিসের প্রেক্ষাপট: একদা হানজালা (রা.) অত্যন্ত চিন্তিত হয়ে আবু বকর (রা.)-কে বললেন, "হানজালা তো মুনাফিক হয়ে গেছে!" আবু বকর (রা.) অবাক হয়ে এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, যখন আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মজলিসে থাকি, তখন জান্নাত-জাহান্নামের আলোচনায় মনে হয় সব চোখের সামনে দেখছি। কিন্তু ঘরে ফিরে পরিবার ও কাজে ব্যস্ত হলে সেই অনুভূতির অনেকটাই ভুলে যাই। আবু বকর (রা.) স্বীকার করলেন যে, তিনিও একই অবস্থা অনুভব করেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সমাধান: তারা উভয়েই বিষয়টি নিয়ে বিশ্বনবী (সা.)-এর কাছে গেলেন। সব শুনে রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন—
"আল্লাহর কসম! যাঁর হাতে আমার প্রাণ, আমার কাছে তোমরা যে অবস্থায় থাকো, যদি সর্বদা সেই অবস্থাতেই থাকতে এবং সর্বদা আল্লাহর জিকিরে মশগুল থাকতে, তবে ফেরেশতারা তোমাদের ঘরে ও পথে তোমাদের সাথে মুসাফাহা (করমর্দন) করত।"
তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, "হে হানজালা, কিছু সময় আখিরাতের জন্য বরাদ্দ রাখো আর কিছু সময় দুনিয়াবি কাজের জন্য রাখো।" রাসুলুল্লাহ (সা.) এই কথাটি তিনবার উচ্চারণ করেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ৬৯৬৬)।
হাদিসের শিক্ষা: ইসলাম মানুষকে সন্ন্যাসবাদ শেখায় না। একজন মুমিনের জীবনে ইবাদত এবং সংসার—উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ। পরকালের ভয় ও জান্নাতের আশা অন্তরে রেখে দুনিয়ার স্বাভাবিক কাজকর্ম পরিচালনা করাই প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য। এই ভারসাম্য বজায় রাখাই হলো ঈমানের প্রকৃত স্বাদ।
জান্নাত/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ