পিলখানায় লুট করে কোটিপতি সাবেক বিডিআর সদস্য টিপু

পিলখানায় লুট করে কোটিপতি সাবেক বিডিআর সদস্য টিপু

অনলাইন ডেস্ক: ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহের সময় পিলখানায় লুটতরাজ করে রাতারাতি কোটিপতি বনে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাবেক বিডিআর সদস্য আশরাফুল হক টিপুর বিরুদ্ধে। সামান্য সৈনিক পদে চাকরি করলেও বর্তমানে তার রয়েছে দুটি ডুপ্লেক্স বাড়িসহ কোটি কোটি টাকার সম্পদ। নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার ভরাপাড়া ইউনিয়নে তার এই বিলাসবহুল জীবনযাপন নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বিলাসবহুল জীবন ও সম্পদের পাহাড় অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আশরাফুল হক টিপু তার স্ত্রীর নামে কেন্দুয়ায় একটি দৃষ্টিনন্দন ডুপ্লেক্স বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এছাড়া পৈতৃক ভিটায় রয়েছে আরও একটি দোতলা ভবন। বাড়ির সামনে গড়ে তুলেছেন বড় আকারের মুরগি ও গরুর খামার। বেশ কয়েকটি পুকুরে চলছে মাছ চাষ এবং কিনেছেন কয়েক একর ফসলি জমি। তার বাল্যবন্ধু ও প্রতিবেশীরা হঠাৎ এই বিপুল সম্পদের উৎস নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করলেও টিপুর ভয়ে অনেকেই মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।

বিচারের হাত থেকে রক্ষার নেপথ্যে সাবেক সেনা কর্মকর্তা অভিযোগ উঠেছে, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সময় লুটপাটে জড়িত থাকলেও টিপুকে আইনি জটিলতা থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন সাবেক দাপুটে সেনা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান। টিপুর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, মোস্তাফিজুর রহমানের হস্তক্ষেপে তিনি সেনাবাহিনী থেকে কোনো সাজা ছাড়াই ‘পেনশন সুবিধাসহ’ মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফেরেন। মোস্তাফিজের চাচাতো ভাইও স্বীকার করেছেন যে, বিডিআর বিদ্রোহের চারদিন পর টিপু গ্রামে ফেরেন এবং তার কাছে থাকা লুট করা অলংকার নিয়ে গ্রামবাসীদের মধ্যে সন্দেহ ছিল।

সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোস্তাফিজের বিতর্কিত ভূমিকা টিপুর আশ্রয়দাতা হিসেবে অভিযুক্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বর্তমানে আমেরিকার লং আইল্যান্ডের হিক্স ভ্যালিতে ১২ কোটি টাকার বাড়িতে বসবাস করছেন। তার বিরুদ্ধে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে মইনুল রোডের বাড়ি থেকে উচ্ছেদে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। বর্তমানে তিনি বিদেশে বসে সামাজিক মাধ্যমে দেশের রাজনীতি ও সামরিক ইস্যুতে সরব থাকলেও নিজের ও টিপুর অবৈধ সম্পদের উৎস নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

পিলখানা ট্র্যাজেডির লুট করা টাকায় এই বিপুল সম্পদ গড়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে এখন তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন