ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
দেশে অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ হামের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৬ সালের এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত পাওয়া তথ্যমতে, হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে দেশে দুই শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত হয়েছে ২১ হাজারেরও বেশি শিশু। গত ১৫ মার্চের পর থেকে এই পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ (মিজলস ভাইরাস), যা আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি বা নিঃশ্বাসের মাধ্যমে ছড়ায়।
প্রাথমিক লক্ষণ: তীব্র জ্বর (১০৪° ফারেনহাইট পর্যন্ত), সর্দি, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং মুখে সাদাটে ছোট দাগ (কোপলিক স্পট)।
পরবর্তী লক্ষণ: ৩-৪ দিন পর কান ও মুখের পেছন থেকে শুরু হয়ে সারা শরীরে লালচে-বাদামী ফুসকুড়ি ছড়িয়ে পড়ে।
সংক্রমণ ক্ষমতা: ফুসকুড়ি দেখা দেওয়ার ৪ দিন আগে থেকে ৪ দিন পর পর্যন্ত আক্রান্ত ব্যক্তি এটি ছড়াতে পারেন। বাতাসের কণা বা দূষিত পৃষ্ঠে এই ভাইরাস প্রায় ২ ঘণ্টা পর্যন্ত বেঁচে থাকে।
১. এমএমআর (MMR) টিকা: হাম প্রতিরোধের একমাত্র কার্যকরী উপায় হলো সঠিক সময়ে টিকা দেওয়া। শিশুদের ৯-১২ মাস বয়সে প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বা তার পরে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে। ২. আক্রান্তকে আলাদা রাখা: পরিবারের কেউ আক্রান্ত হলে ফুসকুড়ি ওঠার পর অন্তত ৪ দিন তাকে সম্পূর্ণ আলাদা রাখতে হবে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী ও শিশুদের থেকে দূরে রাখা জরুরি। ৩. সংস্পর্শে আসার পর পদক্ষেপ: যদি কোনো টিকা না নেওয়া শিশু আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসে, তবে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে 'পোস্ট-এক্সপোজার' টিকা দিলে সংক্রমণের ঝুঁকি বা তীব্রতা কমানো সম্ভব। ৪. চিকিৎসা: হামের কারণে নিউমোনিয়া, কানে ইনফেকশন বা মস্তিষ্কের প্রদাহের মতো জটিলতা হতে পারে। তাই লক্ষণ দেখা দেওয়া মাত্রই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
সতর্কতা: জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকা নিতে অবহেলা এবং সচেতনতার অভাবই এই মহামারীর মূল কারণ। আপনার শিশুকে সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করুন।
জান্নাত/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ