সচেতনতাই শিশুদের ইন্টারনেট আসক্তি দূর করতে পারে

সচেতনতাই শিশুদের ইন্টারনেট আসক্তি দূর করতে পারে

রূপকথার গল্প শুনে খাওয়া কিংবা দাদি-নানির কোলে ঘুমানোর দিনগুলো এখন অতীত। বর্তমানে শিশুদের বড় অংশই বড় হচ্ছে স্মার্টফোনের রঙিন পর্দার মোহবিষ্ট হয়ে। ইউনিসেফের তথ্যমতে, বিশ্বের প্রতি তিনজন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর একজন শিশু। তবে এই ডিজিটাল আসক্তি শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।


ইন্টারনেট আসক্তির ভয়াবহ প্রভাব

  • মানসিক বিকাশ ব্যাহত: শিশুর জীবনের প্রথম তিন বছর মস্তিষ্কের গঠনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার স্বাভাবিক বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে।

  • শারীরিক সমস্যা: দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে চোখের ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়া শারীরিক পরিশ্রম না থাকায় স্থূলতাসহ নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

  • আচরণগত পরিবর্তন: আসক্তির কারণে শিশুরা অল্পতেই রেগে যায়, মেজাজ খিটখিটে হয়ে পড়ে এবং জেদ করে বাড়ির জিনিসপত্র ভাঙচুর করে।

  • সামাজিক দক্ষতার অভাব: কার সাথে কীভাবে কথা বলতে হয় বা সামাজিক আচরণ কেমন হওয়া উচিত, তা শেখার সুযোগ পায় না স্মার্টফোনে মগ্ন শিশুরা।

  • মনোযোগহীনতা: একটানা ভিডিও বা গেম খেলার ফলে পড়াশোনা ও অন্যান্য সৃষ্টিশীল কাজে মনোযোগ হারিয়ে ফেলে তারা।


প্রতিকারের উপায়: অভিভাবকদের করণীয়

১. মানসম্মত সময় দেওয়া: শিশুকে স্মার্টফোন না দিয়ে তার সাথে গল্প করুন, নতুন বই উপহার দিন অথবা একসাথে বিভিন্ন খেলায় অংশ নিন। ২. খাবার সময় সচেতনতা: খাওয়ানোর সময় মোবাইল না দেখিয়ে খাবারের স্বাদ, গন্ধ ও রঙ নিয়ে গল্প করুন। এতে শিশুর খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়বে। ৩. বিকল্প খেলনা: সময় কাটানোর জন্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসের বদলে বিভিন্ন ধরনের পাজল বা শিক্ষামূলক খেলনা হাতে তুলে দিন। ৪. আদর্শ হওয়া: শিশুরা অনুকরণপ্রিয়। তাই অভিভাবকদের নিজেদেরও শিশুদের সামনে মোবাইল ব্যবহারের মাত্রা কমিয়ে আনতে হবে।

পরিবারের সচেতনতাই পারে একটি শিশুকে ডিজিটাল আসক্তির অন্ধকার থেকে মুক্ত করে সুন্দর ও সুস্থ জীবন উপহার দিতে। মনে রাখতে হবে, ইলেকট্রনিক ডিভাইস কেবল একটি যন্ত্র, এটি যেন শিশুর শৈশব কেড়ে না নেয়।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন